ব্যক্তিশ্রেণির করব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য করহার কাঠামো প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের অংশের ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হারে আয়কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সরকারের আসন্ন বাজেটে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়কাল এবং পরবর্তী সম্ভাব্য সরকারের মেয়াদ মিলিয়ে পাঁচ বছরের আয়কর কাঠামোর একটি রূপরেখা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে করদাতারা আগাম করনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে। তবে এই অতিরিক্ত করহার শুধুমাত্র ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ফলে সীমিতসংখ্যক উচ্চ আয়ের করদাতা এর আওতায় আসবেন, মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর এর প্রভাব পড়বে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের করদায় কিছুটা বাড়বে। করবর্ষ ও অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ করবর্ষে কার্যকর হওয়া এই করহার ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে ২০২৮-২৯ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই কাঠামো অনুযায়ী, ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশই থাকবে। তবে ওই সীমার অতিরিক্ত আয়ের অংশে ৩৫ শতাংশ কর দিতে হবে। অন্যদিকে, ২০৩০-৩১ করবর্ষে সর্বোচ্চ করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব থাকলেও নিম্ন আয়ের স্তরগুলোতে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সময়ে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের আয়ের বিপরীতে ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘোষণা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের সর্বোচ্চ হার একসময় ৩০ শতাংশ ছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হলেও সরকারের শেষদিকে আবার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়।
উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর তুলনামূলক বেশি কর আরোপের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মত দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এটি আয়বৈষম্য কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে কর বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মত, নিয়মিত কর পরিশোধকারী ও কর-অনুগত নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা হলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

