সরকার আসন্ন প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ কমাতে একাধিক খাতে শতভাগ কর অব্যাহতি ও শুল্ক মওকুফের বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর একটি হলো ভোজ্য তেল উৎপাদন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দেওয়া।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম পাঁচ বছর শতভাগ কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন বছর পঞ্চাশ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছর পঁচিশ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধা রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ ভোজ্য তেল খাতে মোট দশ বছর পর্যন্ত ধাপে ধাপে কর সুবিধার একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এই ধরনের শিল্পবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী ঘোষণা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এবারের বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ না বাড়ালেও বিভিন্ন খাতে কর ছাড়ের মাধ্যমে ব্যবসা ও সেবাখাতকে উৎসাহিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও বড় সুবিধার প্রস্তাব আসছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এই খাতে শূন্য শতাংশ করহার নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে পাঁচ শতাংশ কর রেয়াত পাওয়ার সুবিধাও থাকতে পারে।
শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করার প্রস্তাবও বাজেটে থাকতে পারে। প্রযুক্তি খাতে নতুন গতি আনতে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসছে। এর ফলে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রিন্টার আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে থাকা ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করার প্রস্তাবও থাকতে পারে। এতে প্রতিটি ডায়ালাইসিসের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমে আসতে পারে।
এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও অগ্রিম কর শতভাগ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

