দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাতে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এ খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ থাকছে ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য হলো দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রশমন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং মাঠ পর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানো।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২০ লাখ গ্রামীণ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই নারী শ্রমিক। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব রাখার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিতে রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার বেশি। এসব বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো সচল ও টেকসই রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও ১১টি আকাশ প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির জন্য শতভাগ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয় ও তথ্য আদান–প্রদান সহজ করবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট উত্থাপন শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

