বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে ৯ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে এ প্রক্ষেপণ তুলে ধরা হয়েছে।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এসব লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেটের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কারণে নীতিগত সুদের হার স্বল্প মেয়াদে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ঋণের ব্যয় কমিয়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এই হার ধীরে ধীরে শিথিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪.৭ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, শুধু নীতিগত সুদের হার কমালেই ঋণ প্রবাহ বাড়বে না। ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় নীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ, দুর্বল মূলধন ভিত্তি এবং সুশাসনের ঘাটতি ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধানও বেড়ে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাংক খাতে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত কর্মদলের সহায়তায় এই সংস্কার বাস্তবায়ন করছে বলে বাজেট নথিতে উল্লেখ করা হয়।
এই সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের গুণগত মান যাচাই, মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংকের জন্য সময়ভিত্তিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা, তদারকি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংক পুনর্গঠন ও অবসান কাঠামো তৈরি।

