পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত ও টেকসই করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে।
সরকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লবণাক্ততা প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিতে পারে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার কথা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে।
এর মধ্যে বর্তমানে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন অর্থবছরে ৩০৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও মেরামত এবং বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকতে পারে। একই সময়ে ৪৮৪ কিলোমিটার নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও খননকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে।
নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী বা জলাশয় দখলমুক্ত করে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। এ উদ্যোগের আওতায় ভৈরব, তিতাস, আড়িয়াল খাঁ, মগনা, সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য নদী পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম গ্রহণ করা হতে পারে। এছাড়া হাওরাঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইতোমধ্যে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের ধারণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। চার বিভাগের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলার মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

