২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ কমেছে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।
নতুন অর্থবছরে নৌ পরিবহন খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে অর্থ বরাদ্দ কমেছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এবারের বাজেটের মোট আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, যার আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় নৌ খাতের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নাব্যতা ঠিক রাখতে ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে অভ্যন্তরীণ নৌরুট সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জরুরি ড্রেজিং কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া পায়রা ও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, স্থলবন্দর সম্প্রসারণ, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। নৌযান নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সেবা ডিজিটালায়নের মাধ্যমে খাতটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও উঠে আসে।
সরকার আরও জানিয়েছে, নৌ পরিবহন খাতকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল এবং লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার এবং অটোমেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌ পরিবহন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।

