আয়কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে নতুন বাজেটে। আগামী অর্থবছর থেকে করদাতারা বছরের যেকোনো সময় আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে এমন একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমায় উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশির জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।
যেসব করদাতা বিদেশে থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেন না, তাঁদের জন্য নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থ বিল ২০২৬ অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে ফেরার পর ৯০ দিনের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
কারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন: নতুন বিধান অনুযায়ী তিন শ্রেণির প্রবাসী করদাতা এই সুযোগ পাবেন।
- প্রথমত, উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে অবস্থানরত করদাতারা।
- দ্বিতীয়ত, চাকরির কারণে প্রেষণ বা লিয়েনে বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিরা।
- তৃতীয়ত, বৈধ ভিসা ও কাজের অনুমতি নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে অবস্থানকারী বাংলাদেশি করদাতারা।
যাঁরা আগে কখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, তাঁদের জন্যও আলাদা সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হারে আয়কর পরিশোধ করে তাঁরা রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকবে।
আগে রিটার্ন দিলে করছাড়:
প্রস্তাবিত বাজেটে রিটার্ন জমার সময়ের ওপর ভিত্তি করে করদাতাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম হবে, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কোনো অতিরিক্ত প্রণোদনা বা করছাড় থাকবে না। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত দিতে হবে।
আর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
করদাতাদের জন্য নতুন বার্তা:
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের বাধ্যবাধকতা অনেকটাই শিথিল হবে। তবে একই সঙ্গে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যাঁরা আগে রিটার্ন জমা দেবেন, তাঁরাই বেশি সুবিধা পাবেন। ফলে করদাতাদের জন্য সময়মতো রিটার্ন দাখিল শুধু দায়িত্বই নয়, আর্থিকভাবে লাভজনকও হয়ে উঠতে পারে।

