দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে মোট ৪ হাজার ১৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ২০টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন পায়। বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও কয়েকটি নীতিগত প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে।
দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই এবং গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই এলএনজি সরবরাহ করবে।
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে মসুর ডাল ও ভোজ্যতেল কেনার চারটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব পণ্য কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৮১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
এর আওতায় চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস থেকে প্রতি কেজি ৮১ দশমিক ৪৭ টাকা দরে ১০ হাজার টন মসুর ডাল সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল থেকে পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি কেজি ৭৪ দশমিক ৮৬ টাকা দরে ১২ হাজার ৫০০ টন ডাল কেনা হবে।
এ ছাড়া ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল থেকে প্রতি লিটার ১৮৩ দশমিক ৯৫ টাকা দরে দুই কোটি লিটার পাম অলিন সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনা হবে, যার প্রতি লিটারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৪ দশমিক ৭৭ টাকা।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর এনইইটি’ প্রকল্পের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা ৮ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণীকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এ কর্মসূচির আওতায় দেশের আট বিভাগে প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ব্র্যাক জেভি, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ ১০টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্র্যাক জেভিকে ১৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেড, দক্ষিণ কোরিয়ার নিউ ওয়াটার টেক কোম্পানি এবং শতাব্দী হাই বাংলাদেশ।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমানো এবং নগর পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের সাতটি প্যাকেজ বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এসব কাজ সম্পন্ন করবে।
কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ৬০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৪৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কিনতে ব্যয় হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে কাফকো থেকে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।
এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকার ঠিকাদার নিয়োগ এবং বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতাধীন রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে ১৯৫ কোটি টাকার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

