বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি টেক্সটাইল শিল্প ক্রমেই গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প একের পর এক নীতিগত ও অর্থনৈতিক চাপে টিকে থাকার লড়াই করছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশীয় মিলগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ভারত ও চীনের উৎপাদকদের কাছে বাজার হারাতে পারে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, চলতি মাসে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা বাতিল করায় খাতটি নতুন করে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। গত কয়েক বছরে জ্বালানি সংকট, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, সুতা আমদানিতে অতিরিক্ত অপচয় হার সুবিধা এবং নগদ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণে অনেক টেক্সটাইল মিল কার্যক্রম বন্ধ করেছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে অনেক টেক্সটাইল মিল টিকে থাকতে পারবে না। তিনি জানান, আমদানিকৃত সুতা দিয়ে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের যে শর্ত ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধান তৈরি পোশাক, চামড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইস্পাত, প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিয়ম প্রত্যাহার হওয়ায় জ্বালানিনির্ভর টেক্সটাইল খাত আরও বেশি চাপে পড়বে। অথচ এই খাত দেশের লাখো মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে এবং বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের মতে, স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়বে। এর ফলে দেশীয় মিলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত টেক্সটাইল শিল্পকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি টেক্সটাইল মিলকে লাভজনক রাখতে হলে প্রায় ৯৫ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা প্রয়োজন কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক মিল মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
শিল্পখাতের নেতারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, তৈরি পোশাক খাতকে দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার প্রভাবে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পগুলো ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে। তাদের দাবি, স্থানীয় মিলের পরিবর্তে ভারতীয় সুতা ও চীনা কাপড়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় দেশের সামগ্রিক মূল্য সংযোজন কমে যাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার নেমে এসেছে ৬১ শতাংশে। এর আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ৬৪ শতাংশের বেশি। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে তা প্রায় ৬৮ শতাংশ ছিল।
বিটিএমএর পরিচালক শহীদ আলম বলেন, পোশাক কারখানাগুলো যদি দেশীয় মিল থেকে বেশি পরিমাণে কাপড় সংগ্রহ করত, তাহলে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি হতে পারত।
কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন টেক্সটাইল উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে ১২ শতাংশ করপোরেট কর দেয়, সেখানে টেক্সটাইল মিলগুলোকে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হয়। তাদের মতে, এই বৈষম্যও শিল্পটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে টেক্সটাইল শিল্প:
টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট থেকেই শিল্পটির বর্তমান সংকটের সূচনা। গ্যাসের স্বল্পতার কারণে অনেক কারখানাকে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আবার কোথাও দিনের পর দিন উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির ছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, যখন শিল্প খাতে গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সম্প্রসারণে আগ্রহী বিদ্যমান কারখানাগুলোর জন্য গ্যাসের মূল্য আরও বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট ৪০ টাকা নির্ধারণ করে।
মিল মালিকদের অভিযোগ, উচ্চমূল্য পরিশোধের পরও নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন সচল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এনজেড টেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সহ-সভাপতি সালেউধ জামান খান বলেন, গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র গ্যাস সংকটের কারণেই প্রায় ১৫০টি টেক্সটাইল কারখানা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৩৪টি টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে তাঁর নিজের মালিকানাধীন পাঁচটি কারখানাও রয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, যেখান থেকে খাতটির পুনরুদ্ধার অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের মতে, টেক্সটাইল শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে সর্বাগ্রে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, জ্বালানি সংকটের কার্যকর সমাধান ছাড়া এই খাতের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
উচ্চ সুদহার ও অপচয় হার নীতিতে বাড়ছে টেক্সটাইল খাতের চাপ:
ব্যাংকার ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল টেক্সটাইল মিলগুলো বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এতে তাদের জন্য নতুন করে চলতি মূলধন সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে নেওয়া মেয়াদি ঋণ এখন অনেক কারখানার জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বহু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের সংকটে ভুগছে। ব্যাংকগুলো কেন নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী, সে বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ঋণপত্রের বিপরীতে সময়মতো দায় পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ঋণ অনুমোদনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২২ সালে নেওয়া একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি তুলেছেন টেক্সটাইল উদ্যোক্তারা। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৈরি পোশাক উৎপাদনের জন্য শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির ক্ষেত্রে অনুমোদিত অপচয় হার ১৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩২ শতাংশ করা হয়। এর ফলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সুতা শুল্ক ছাড়াই আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্পিনিং মিল মালিকদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতিতে সুতা উৎপাদনে অপচয়ের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান নিয়মের সুযোগ নিয়ে অনেক আমদানিকারক অতিরিক্ত সুতা দেশে আনছেন, যার বড় একটি অংশ ভারত থেকে আসে। পরে উদ্বৃত্ত সুতা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা দেশীয় স্পিনিং শিল্পের জন্য বড় প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিটিএমএর পরিচালক শহীদ আলম বলেন, পোশাক শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ার ফলে অপচয়ের পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে। তাই অনুমোদিত অপচয় হার ৩২ শতাংশ রাখার যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, এটি ৫ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত অপচয় সুবিধার সুযোগ নিয়ে উদ্বৃত্ত কাপড়ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। তাঁর দাবি, এক ট্রাক কাপড় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
বিটিএমএর পরিচালক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ২০১৭ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি। সে সময় টেক্সটাইল মিলগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করেছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও গত বছর সেই বিক্রির পরিমাণ কমে ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
তাঁর মতে, বাজারের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় দেশীয় বিক্রির পরিমাণ অন্তত ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শুল্কমুক্ত সুতা ও কাপড় আমদানির পর সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়ার কারণে দেশীয় শিল্প প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার হারিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভারতীয় সুতার প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগ সংকটে টেক্সটাইল খাত:
টেক্সটাইল উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকারি বিভিন্ন সহায়তার কারণে ভারতীয় সুতা বাংলাদেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে প্রবেশ করছে, যা দেশীয় উৎপাদকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনজেড টেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সহ-সভাপতি সালেউধ জামান খান বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের উৎপাদিত সুতার বাজারমূল্য প্রায় সমান, প্রতি কেজি প্রায় ৩ ডলার। তবে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি এবং প্রায় ২ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর রেয়াতসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কারণে ভারতীয় মিলগুলো বাংলাদেশে প্রতি কেজি সুতা প্রায় ২ দশমিক ৯০ ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে ভারতীয় সুতা বাংলাদেশি বাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করছে। এর ফলে অনেক দেশীয় স্পিনিং মিল উৎপাদিত সুতা বিক্রি করতে পারছে না। আবার কেউ কেউ লোকসান গুনে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতীয় সুতার সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্যগুলোর একটি বাংলাদেশ। প্রতিবছর ভারত তাদের মোট সুতা উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশে বিক্রি করছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
রপ্তানিকারক থেকে আমদানিনির্ভর অবস্থানে:
টেক্সটাইল খাতের পরামর্শক এ কে আজাদ বলেন, একসময় বাংলাদেশ তুরস্কে কাপড় রপ্তানি করত। কিন্তু বর্তমানে দেশের চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বেক্সিমকো, মন্নু ও সিনহা গ্রুপের মতো দেশের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতীতে আধুনিক কাপড় উৎপাদন কারখানা স্থাপনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছিল। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক কারখানাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
এ কে আজাদের মতে, বাংলাদেশ থেকে কাপড় আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর তুরস্ক তাদের স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। বিপরীতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সুতা ও কাপড় শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দিয়ে আসছে, যা দেশীয় শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলেছে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাপড় চীন থেকে আমদানি করায় অনেক চীনা উদ্যোক্তা দেশের টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে বাজার বিশ্লেষণের পর অনেক সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ান। খোরশেদ আলমের দাবি, তারা বাংলাদেশে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সীমান্তপথে অবৈধভাবে কাপড় ও তৈরি পোশাক প্রবেশের বিষয়টিও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পণ্য প্রবেশের কারণে স্থানীয় বাজারে বৈধভাবে উৎপাদিত বা আমদানিকৃত পণ্যের জন্য পর্যাপ্ত ক্রেতা পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্যভুক্ত মোট মিলের সংখ্যা ১ হাজার ৭৮০টি। এর মধ্যে ৫১৯টি স্পিনিং মিল সুতা উৎপাদন করে এবং ৯৩৮টি উইভিং মিল কাপড় তৈরি করে। এছাড়া ৩২৩টি ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল রয়েছে।
সংগঠনটির হিসাব বলছে, টেক্সটাইল খাতের ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পগুলোতে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী নারী, যা দেশের শিল্প ও রপ্তানি অর্থনীতিতে এই খাতের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

