বিশ্বজুড়ে ধনকুবের বা মিলিয়নেয়ারদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অর্থনৈতিক বৈষম্যও। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের সর্বশেষ বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে এমনই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি ১৭তম বারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সম্পদ সৃষ্টি ও বণ্টনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
ইউবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্বজুড়ে মানুষের মোট সম্পদ বেড়েছে। এ সময়ে ব্যক্তিগত মোট সম্পদ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। যা আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রধান ইকবাল খান বলেছেন, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তির রূপান্তর এবং বিভিন্ন বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন করে ধনকুবেরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ মিলিয়নেয়ার হয়েছেন। এই নতুন ধনকুবেরদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
তবে সম্পদ বাড়লেও অধিকাংশ দেশে মধ্যম সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ইউবিএস বলছে, ধনী ব্যক্তিদের আয়ের প্রভাব গড় হিসাবকে বিকৃত করতে পারে। তাই মধ্যম সম্পদের হিসাবকে বাস্তব চিত্রের বেশি কাছাকাছি ধরা হয়। মধ্যম সম্পদের হিসাবে বিশ্বে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান তৃতীয়। এর আগে রয়েছে লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়াম। অস্ট্রেলিয়ায় জনপ্রতি মধ্যম সম্পদ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিবিদ সল এসলেক মনে করেন, মধ্যবিত্ত ও ধনী শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদের বণ্টন কিছুটা বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গড় পারিবারিক সম্পদ মধ্যম পারিবারিক সম্পদের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। সে তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় বৈষম্য থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনেক মানুষ ধনকুবেরের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মূলত সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির কারণে। বিশেষ করে নিজেদের বসবাসের বাড়ির মূল্য বাড়ায় তাদের সম্পদ বাড়তি হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে এতে তাদের নগদ আয় বা ব্যয়যোগ্য অর্থ বাড়েনি। এই সম্পদ মূলত তখনই নগদে রূপ নেয়, যখন সম্পত্তি বিক্রি করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় গত পাঁচ বছরে আবাসিক সম্পত্তির মূল্য সাধারণভাবে বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, বাজারে এখন মন্দার চাপ তৈরি হতে পারে। সুদের হার বৃদ্ধি, করনীতি পরিবর্তন এবং অন্যান্য আর্থিক নীতির প্রভাবেও আবাসন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে লিঙ্গ বা বয়সভিত্তিক সম্পদ বণ্টনের আলাদা বিশ্লেষণ করা হয়নি।
বৈষম্য পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত ‘জিনি সহগ’ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার স্কোর শূন্য দশমিক ৫৩। আগের বছর যা ছিল শূন্য দশমিক ৫৫। এতে দেখা যায়, বৈষম্য কিছুটা কমেছে।
প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ৫৬টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৫২তম। সবচেয়ে কম বৈষম্যের দেশ হিসেবে রয়েছে স্লোভাকিয়া। আর সবচেয়ে বেশি বৈষম্য দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়। ইউবিএস বলছে, কোনো দেশ একদিকে যেমন ধনী হতে পারে, তেমনি একই সঙ্গে সেখানে বৈষম্যও তীব্র হতে পারে। আবার এর উল্টো পরিস্থিতিও সম্ভব।

