বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল হতে পারে—এমন আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও আলোচনার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেগুলো কোনো একতরফা সিদ্ধান্তের ফল নয়। বরং উভয় দেশের সম্মতি, প্রয়োজন এবং যৌথ পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাই এগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনার কোনো ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, অগ্রগতির ঘাটতির কারণে বাংলাদেশে ভারতের সহায়তায় পরিচালিত ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত হতে পারে। তবে এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে ভারত জানিয়েছে, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পর্যালোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তও দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব এসব প্রকল্পের ওপর পড়বে কি না। সর্বশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে নয়াদিল্লি সেই অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এটি অবশ্য ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম এমন বক্তব্য নয়। এর আগেও গত সপ্তাহে রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশে ভারতের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো একটি যৌথভাবে অনুমোদিত দ্বিপক্ষীয় পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুই দেশ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো উন্নয়ন সহযোগিতা। যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক নানা খাতে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। তাই এসব প্রকল্প নিয়ে যেকোনো ধরনের গুঞ্জন স্বাভাবিকভাবেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সর্বশেষ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, উন্নয়ন সহযোগিতাকে তারা দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ হিসেবেই দেখছে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি, অর্থায়নের গতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়গুলো আগামী দিনেও বাংলাদেশ ও ভারতের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

