নতুন অর্থবছরের শুরুতেই ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে সরকারের নতুন বাজেটে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ঋণনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যও গুরুত্ব পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা কিউআর কোড শুধু লেনদেন সহজ করার মাধ্যম নয়, বরং রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্ধারিত এই লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। কারণ এনবিআরের মোট রাজস্ব আয়ের বড় অংশ আসে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে। এবারের অর্থবছরে ভ্যাট খাত থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যা এনবিআরের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩৮ শতাংশ। ফলে ভ্যাট আদায় বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এক্ষেত্রে বাংলা কিউআর কোড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেনাকাটা ও দৈনন্দিন লেনদেনে এর ব্যবহার যত বাড়বে, তত বেশি লেনদেন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং ভ্যাট আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ হতে পারে।
তবে বাংলা কিউআর কোডের জনপ্রিয়তা বাড়াতে শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না, প্রয়োজন ব্যাপক প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরি। ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের জানাতে হবে, ডিজিটাল লেনদেন কীভাবে সময় বাঁচায়, নিরাপত্তা বাড়ায় এবং নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমায়। ডিজিটাল লেনদেনের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, প্রতিটি লেনদেনের একটি নির্ভরযোগ্য রেকর্ড তৈরি হয়। এর ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা সমাধান করাও সহজ হয়।
বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে উৎসাহ বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায়ে সেবাটি আরও সহজলভ্য করা এবং প্রয়োজনে চার্জমুক্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন নীতিনির্ধারকরা। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে একদিকে যেমন ভ্যাট আদায় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পাবে।
তবে এ উদ্যোগ সফল করতে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারই হতে পারে ভবিষ্যতের আধুনিক ও স্বচ্ছ রাজস্ব ব্যবস্থার ভিত্তি।

