মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। দুইটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৪৪০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হবে। এসব ঋণ দেওয়া হবে ৮ ও ৯ শতাংশ সুদে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের রিভলভিং তহবিলের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সহায়তায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সঙ্গে পৃথক চুক্তির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এই কর্মসূচিতে ঋণের সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এসএমই উদ্যোক্তাদের সুবিধা দিতে ঋণের শর্তেও রাখা হয়েছে কিছু বিশেষ সুযোগ। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর। ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যেতে পারে। এরপর ৪৮টি কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে নারী উদ্যোক্তা ও এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের। মোট ঋণের ২৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এবং ২০ শতাংশ এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোট ঋণের অন্তত ৬০ শতাংশ উৎপাদন খাতে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, রফতানিমুখী ও আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, নারী উদ্যোক্তা, পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের ব্যবসা, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সবুজ উদ্যোগ এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তবে মুদি দোকান, ওষুধের দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা এবং পরিবেশদূষণকারী কার্যক্রম এ ঋণ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে। এসএমই খাতকে আরও গতিশীল করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

