বর্তমান সরকার দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি দপ্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আচরণ এখনো বড় বাধা হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন, এক বিদেশি বিনিয়োগকারী শাফকাত রাব্বী অনিক।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো সরকারি অফিসে ফোন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেলে মেসেজ রেখে দিলে সাধারণত কেউ আর কলব্যাক করেন না। এমনকি ই-মেইল করলেও অনেক সময় কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। কারও সঙ্গে কথা বলার জন্য সময় চেয়ে ক্যালেন্ডার ইনভাইট পাঠালেও তার জবাব পাওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, বিদেশ থেকে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে যেসব সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাদের অনেকের আচরণে মনে হয়েছে, তিনি বিনিয়োগ করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন এবং কর্মকর্তারা সেই সমস্যা থেকে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন কি না, তা ভেবে দেখবেন।
ওই বিনিয়োগকারী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের কথাবার্তার ধরন অনেক সময় ‘কর্তৃত্বপূর্ণ’। তাদের কণ্ঠে এমন একটি ভাব থাকে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বাভাবিকভাবে আকৃষ্ট করার পরিবর্তে দূরে সরিয়ে দেয়।
তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ থেকে কোনো দেশে বিনিয়োগের কথা চিন্তা করলে একজন বিনিয়োগকারীর সামনে বিশ্বের প্রায় ২২০টি দেশের সুযোগ থাকে। যে দেশের সরকারি অফিস বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে রাজার মতো আচরণ করবে, সেখানে বিনিয়োগ করার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও রেটিং সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, কানাডা, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকারি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে কাজ করেছেন। উন্নত দেশ বাদ দিলেও ছোট ছোট ক্যারিবীয় বা আফ্রিকার দেশগুলোর সরকারি অফিসে বিদেশি ব্যাংক বা বিনিয়োগকারী পরিচয় দিলে ভালো আচরণ, মনোযোগ ও গ্রাহকসেবার মান পাওয়া যায়।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতা ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে এবং চাইলে বড় ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দ্রুত সাড়া পেতে পারতেন। তবে তিনি তা করেননি। বরং একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবেই সব সময় যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন।
তার মন্তব্য, “অভিজ্ঞতা খুবই খারাপ।”


