যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত বাণিজ্য অর্থায়ন সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (UKEF)-এর মাধ্যমে এ অর্থায়নের লক্ষ্য হলো এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান-কে পাঠানো এক অভিনন্দনপত্রে এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। চিঠিতে বলা হয়, এই অর্থায়নের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন সহজ হবে, ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে এবং বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪৫০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) ৮৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে।
এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের Developing Countries Trading Scheme (DCTS)-এর আওতায় শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা অব্যাহত থাকবে। উত্তরণের পর তিন বছরের রূপান্তরকালীন সময় পর্যন্ত বর্তমান সুবিধা বহাল থাকবে। এরপর বাংলাদেশ DCTS Enhanced Preferences পর্যায়ে যাবে, যেখানে তৈরি পোশাকসহ ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের জন্য Rules of Origin আরও নমনীয় করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারক, উৎপাদক ও ব্রিটিশ ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিশ্চয়তা পান।
এই অর্থায়ন সুবিধার ব্যবহার বাড়াতে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন ওয়েবিনার ও ব্যবসায়িক প্রচার কর্মসূচির আয়োজন করবে, যাতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো UKEF-এর অর্থায়ন ও অন্যান্য বাণিজ্য সহায়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি উত্তরণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রপ্তানি বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা। যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমাবে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, উচ্চমানের প্রকল্প নির্বাচন, পরিবেশ-সামাজিক-সুশাসন (ESG) মানদণ্ড নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও উন্নত অবকাঠামো ছাড়া এই সহায়তার পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

