দেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। এক মাসে মোট ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা সংকটের চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে।
সড়ক নিরাপত্তা ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, একক যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেলই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির সঙ্গে জড়িত।
বিশ্লেষকদের মতে, মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও নিরাপদ চালনা, সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং কার্যকর নজরদারির অভাব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা এবং সড়ক আইন না মানার প্রবণতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন শিশু, ১০৬ জন পথচারী, ৫৩ জন শিক্ষার্থী এবং ৫১ জন পরিবহনশ্রমিক, যার মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের চালকরাও রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাব কেবল চালক বা যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পথচারী, শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবী মানুষেরাও সমানভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
শুধু সড়কপথ নয়, জুলাই মাসে রেল ও নৌপথেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি খাতেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সড়ক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
জুলাই মাসের এই পরিসংখ্যান আবারও মনে করিয়ে দেয়, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তা না হলে প্রতি মাসেই এমন প্রাণহানির মর্মান্তিক হিসাব আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

