ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণ বাড়ায় শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক গ্রাহকেরা আগের তুলনায় বেশি গ্যাস পাচ্ছেন।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের একটি এলএনজি কার্গো ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটে পৌঁছানোর পর এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় প্রায় ৭৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট। আগের দিন এ পরিমাণ ছিল ৫১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলে দেশে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বেড়ে হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার পরিচালনা ও খনি বিভাগের পরিচালক এবং পিএসসি মো. শোয়েব শনিবার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি ৬ আগস্ট ভোর থেকে আংশিকভাবে চালু হয়েছে। টার্মিনালটির দুটি বয়লারের মধ্যে একটি বর্তমানে সচল রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকেরাও গত দুই সপ্তাহের সংকটকালীন সময়ের তুলনায় বেশি চাপের গ্যাস পাচ্ছেন।
গত ২১ জুলাই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাবে গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের বহন করা দুটি এলএনজি কার্গোর সরবরাহও ব্যাহত হয়েছিল।
টার্মিনালটির আংশিক কার্যক্রম চালু হওয়া এবং নতুন এলএনজি কার্গো আসায় বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে পুরো সক্ষমতায় টার্মিনালটি চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পুরোপুরি স্বস্তি ফিরবে কি না, সেটি নির্ভর করবে পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতা কত দ্রুত বাড়ানো যায় তার ওপর।

