দেশে তীব্র গ্যাস–সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপণ্যের সরবরাহে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ৬ আগস্ট এটি আংশিকভাবে চালু হলেও এখনো প্রায় অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। ফলে দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৭ কোটি ঘনফুট।
ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগোষ্ঠী:
- মেঘনা গ্রুপ (এমজিআই): চিনি, গম, সয়াবিনসহ নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ১২টি কারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ।
- টি কে গ্রুপ: ২৮টি কারখানার মধ্যে ২০টিই বন্ধ, বাকিগুলোয় সীমিত উৎপাদন।
- নাবিল গ্রুপ: প্রায় ২০টি কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা নেমে এসেছে প্রায় ৪০ শতাংশে; বিদ্যুৎ দিয়ে বিকল্পভাবে চালু রাখা হচ্ছে।
- স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস: চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের তিনটি বড় কারখানাই বন্ধ।
- সীকম গ্রুপ (ডেল্টা এগ্রোফুড): তিনটি কারখানা বন্ধ, যদিও কাঁচামাল মজুত আছে।
- সিটি গ্রুপ: হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানা চালু করা যায়নি।
কারখানা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আপাতত গুদামে মজুত পণ্য দিয়ে বাজার সামাল দেওয়া হচ্ছে, ফলে তাৎক্ষণিক সরবরাহ–সংকট দেখা যায়নি। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান নিত্যপণ্য সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া, বাজার নজরদারি বাড়ানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনের সময়সীমা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছেন।

