জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখনো বেশিরভাগ পণ্যের দাম সরাসরি বাড়েনি, তবে পরিবহন ও সরবরাহ খরচ বেড়ে গেলে আগামী দিনে বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রভাব এখনো পণ্যের দামে স্পষ্ট নয়। তবে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বাড়লে সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপতে পারে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর নিউ মার্কেটের মুদি ব্যবসায়ী মিরাজ আহমেদ বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর এখনো তাদের পণ্যের দাম পরিবর্তন হয়নি। তবে পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে আগামী দিনে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনার খরচ বাড়লে ব্যবসায়ীদেরও বাধ্য হয়ে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ করতে হবে। তবে কোন কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জ্বালানির নতুন দামের প্রভাব এখনো না পড়লেও রাজধানীর সবজির বাজারে অনেক পণ্যের দাম আগে থেকেই তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। গোল বেগুনের দাম ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি শিমের দাম ১০০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, জুকিনি ৫০ টাকা এবং কাঁচকলা প্রতি ডজন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার দাম প্রতি কেজি ২০ টাকা।
হাতিরপুল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর এখন সবাই অপেক্ষা করছে বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়ে তা দেখার জন্য।
তিনি বলেন, পরিবহন খরচ বাড়লে সবজির দামও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের সংসার চালানোর চাপ আরও বাড়াবে।
নিউ মার্কেটের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, এখনো জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবজির দামে পরিবর্তন আসেনি। তবে দূরের পাইকারি বাজার থেকে সবজি আনতে খরচ বাড়লে আগামী দিনে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পরও ডিম, মুরগি এবং গরুর মাংসের বাজারে এখনো বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
নিউ মার্কেটের ক্রেতা নাজমা আক্তার বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।
তার মতে, বর্তমানে অনেক পরিবারই বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তাই নতুন করে কোনো মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ তৈরি করবে।
রাজধানীর মাছের বাজারেও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যায়নি।প্রতি কেজি পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা এবং আকার ও মান অনুযায়ী চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
এ ছাড়া পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং টেংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভেটকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কৈ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খামারের কৈ ২৬০ টাকা কেজি দরে।
খামারের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের এক মাছ বিক্রেতা বলেন, মাছ ঢাকার বাইরে থেকে আসে। তাই পরিবহন খরচ বাড়লে আগামী দিনে মাছের দামও বাড়তে পারে।তিনি বলেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীদেরও বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে হবে।
বর্তমানে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর এখনো মুদি পণ্যসহ বেশিরভাগ পণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে সব পণ্যের দামে দেখা যায় না। পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন ব্যয়ের পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এর প্রভাব বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ জ্বালানি খরচ বাড়লে এর প্রভাব শুধু তেলের বাজারে নয়, পুরো অর্থনীতির ব্যয় কাঠামোর ওপর পড়ে।

