গত তিন দশকে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে যে টেক্সটাইল শিল্প গড়ে উঠেছে, সেটিই এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে। তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামালের অন্যতম প্রধান জোগানদাতা এই খাতে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কমছে উৎপাদন, বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা। সবচেয়ে বড় আঘাতটি পড়ছে শ্রমবাজারে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ১৫০টি সদস্য মিল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার পরিবার।
সংকটের মাত্রা এখানেই শেষ নয়। যেসব মিল এখনও চালু আছে, সেগুলোরও একটি বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে দেশে সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন কমছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামালের জন্য বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—তিন দশকের বিনিয়োগে শক্তিশালী হয়ে ওঠা দেশের টেক্সটাইল শিল্প কেন আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে?
একসঙ্গে এতগুলো সংকট
দেশের টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো একটি সমস্যার ফল হিসেবে দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। বরং দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা কয়েকটি সংকট একসঙ্গে এই খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, আমদানির চাপ এবং নীতিগত অসামঞ্জস্য—সব মিলিয়ে শিল্পটির ওপর চাপ বেড়েছে।
বিশেষ করে সুতা তৈরি, রং করা ও কাপড় প্রক্রিয়াজাত করার মতো কাজগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয় কিংবা সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিক, ঋণ, জমি, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ব্যয় থেমে থাকে না।
ফলে উৎপাদন কমার সঙ্গে সঙ্গে কারখানাগুলোর আর্থিক চাপও বাড়তে থাকে।
৩২ থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে
টেক্সটাইল ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দেশের এই খাতে প্রায় ৩২ থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই শিল্পের বড় অংশ এখন অব্যবহৃত সক্ষমতায় পড়ে আছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছেন, গত ছয় মাসেই সংগঠনটির প্রায় ১৫০টি সদস্য মিল বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন কমেছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে।
তিনি আরও মনে করেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না; ব্যাংক খাতও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। কারণ বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা বাড়লে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বাড়তে পারে।
অর্থাৎ টেক্সটাইল শিল্পের সংকটকে শুধু একটি শিল্পখাতের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে ব্যাংক, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে।
উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, দীর্ঘদিনের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ঋণের সুদ বৃদ্ধি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিকূলতার কারণে টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প কঠিন সময় পার করছে।
তাঁর হিসাবে, এ পরিস্থিতিতে শিল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেক কারখানায় কর্মী ছাঁটাই হয়েছে।
এর অর্থ হলো, দেশের শিল্প অবকাঠামো থাকলেও তার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একটি কারখানা স্থাপন করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ বা কমে গেলে সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায় না।
পোশাক রপ্তানিতেও পড়ছে প্রভাব
টেক্সটাইল শিল্পকে সাধারণত তৈরি পোশাকশিল্পের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দেশের নিট পোশাকশিল্পের প্রায় শতভাগ এবং ওভেন পোশাকশিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ সুতার চাহিদা স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলো পূরণ করে।
ফলে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্প দুর্বল হলে তার প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পেও পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে। আর্থিক হিসাবে এই পতনের পরিমাণ প্রায় ৬৫ কোটি মার্কিন ডলার।
টেক্সটাইল ব্যবসায়ীদের মতে, স্থানীয় মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা আরও দুর্বল হবে। তখন পোশাক কারখানাগুলোকে কাঁচামালের জন্য বিদেশের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
আমদানির চাপ বাড়ছে
টেক্সটাইল শিল্পের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো আমদানি। স্থানীয় মিলগুলো যখন উৎপাদন কমাচ্ছে, তখন দেশের বাজারে বিদেশি সুতা ও কাপড়ের উপস্থিতি বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক বছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ভারতের উৎপাদকরা ব্যাপক ভর্তুকি ও প্রণোদনা পাওয়ায় সেখানকার সুতা বাংলাদেশের বাজারে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কম দামে প্রবেশ করছে।
এতে দেশীয় মিলগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এই পরিস্থিতিতে কম দামে পণ্য ঢোকার বিষয়টিকে পণ্য ফেলে দেওয়ার মতো অসুস্থ প্রতিযোগিতার আশঙ্কার সঙ্গে দেখছেন।
তবে বিষয়টি শুধু আমদানি বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূল প্রশ্ন হলো, স্থানীয় শিল্প যখন উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, ঋণের সুদ এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ে চাপে রয়েছে, তখন তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত বিদেশি পণ্যের সঙ্গে তারা কীভাবে প্রতিযোগিতা করবে?
বন্ড সুবিধা নিয়েও বিরোধ
স্থানীয় টেক্সটাইল মিল ও তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও বিরোধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কিছু সুতা ও কাপড় খোলাবাজারে চলে আসার সুযোগ থাকলে স্থানীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। তাই এ ধরনের পণ্যের ব্যবহার ও বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।
টেক্সটাইল ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বন্ড সুবিধার মূল উদ্দেশ্য রপ্তানিমুখী শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করা। কিন্তু সেই সুবিধা যদি দেশীয় উৎপাদকদের জন্য বাজার সংকুচিত করে, তাহলে নীতিটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।
ক্রয়াদেশ কমেছে, বেড়েছে আর্থিক চাপ
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে প্রভাব ফেলছে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় কারখানাগুলো প্রত্যাশিত উৎপাদন করতে পারছে না।
অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি শ্রমিকের বেতন, বিদ্যুৎ-গ্যাস, কাঁচামাল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদের মতে, ঋণের সুদ, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে টেক্সটাইল মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে।
এই অতিরিক্ত ব্যয় শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্থানীয় মিলগুলোকে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ঝুঁকিতে ২০ লাখ শ্রমিক
টেক্সটাইল শিল্পের সংকটের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থানে।
বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। এর অর্থ হলো, একটি মিল বন্ধ হলে শুধু সেখানে কর্মরত শ্রমিকই আয় হারান না; পরিবহন, কাঁচামাল সরবরাহ, স্থানীয় ব্যবসা, খাবারের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট নানা কর্মকাণ্ডেও তার প্রভাব পড়ে।
ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন। আরও কারখানা বন্ধ হলে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে।
একজন শ্রমিকের চাকরি হারানোর অর্থ একটি পরিবারের আয় কমে যাওয়া। আর যখন একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন, তখন এর প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের একাধিক দাবি
নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীরা সংকট সমাধানের জন্য সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থানীয় বাজারে সুতা বিক্রিতে প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে দেশীয় মিল থেকে অন্তত ৫০ শতাংশ সুতা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের যুক্তি, এতে স্থানীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর বাজার নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের দেশীয় সরবরাহব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা ও কাপড় যাতে খোলাবাজারে বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ২০২৬ সালেই
টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত নীতিগত সহায়তা ও বাজার সুরক্ষা না দিলে ২০২৬ সালের মধ্যেই অর্ধেকের বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু টেক্সটাইল শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের সরবরাহ কমবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং তৈরি পোশাকশিল্পও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান। ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারানোর পর আরও বড় সংখ্যায় কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হলে তার সামাজিক প্রভাবও হবে গভীর।
সংকটটি তাই শুধু টেক্সটাইলের নয়
বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির বড় অংশ তৈরি পোশাকশিল্পনির্ভর। আর সেই পোশাকশিল্পের পেছনে যে স্থানীয় সুতা ও কাপড়ের বিশাল শিল্পব্যবস্থা রয়েছে, সেটিই টেক্সটাইল খাত।
তাই টেক্সটাইল মিল বন্ধ হওয়াকে শুধু কয়েকটি কারখানার ব্যবসায়িক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র ধরা পড়বে না। এখানে জড়িয়ে আছে বিপুল বিনিয়োগ, লাখ লাখ শ্রমিকের জীবিকা, পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থা, ব্যাংকের ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং দেশের শিল্প সক্ষমতা।
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে একদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে ঋণের ব্যয়, আমদানি নীতি এবং স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
কারণ একটি শিল্প একবার বন্ধ হয়ে গেলে শুধু অর্থ দিয়ে তার উৎপাদনক্ষমতা দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায় না। দক্ষ শ্রমিক, বাজার, সরবরাহকারী ও ক্রেতার যে সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে তৈরি হয়, তা ভেঙে গেলে পুনর্গঠন করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাত সেই ঝুঁকির দিকেই এগোচ্ছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে সংকটকে কত দ্রুত এবং কতটা সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা যায় তার ওপর।

