এক সময়ের করপোরেট বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকো গ্রুপ এখন দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতেই হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির শত শত প্রশাসনিক কর্মকর্তার বেতন দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে আছে, আর গ্রুপের অধিকাংশ কারখানাই এখন পুরোপুরি অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সাফল্যের শীর্ষে থাকার সময় এই শিল্পগোষ্ঠীতে সত্তর হাজারেরও বেশি মানুষ কর্মরত ছিলেন। অথচ এখন তাদের করপোরেট কার্যালয়গুলো একেবারে নীরব, কারখানার ফটকে ঝুলছে তালা। যে কয়েকটি ইউনিট এখনো কোনোমতে সচল আছে, সেগুলো দেখভাল করছেন হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী।
চলতি মূলধনের তীব্র সংকট, রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটির অনেক করপোরেট কর্মকর্তার বেতন প্রায় এক বছর ধরে আটকে আছে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল ব্যবসা সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটেছিল টেক্সটাইল, ওষুধ, সিরামিক, আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি, গণমাধ্যম এবং আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে। কিন্তু দুই হাজার চব্বিশ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই গোষ্ঠীর ভাগ্য দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে যায়। গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকারের একজন সাবেক বেসরকারি শিল্প উপদেষ্টা, যিনি একইসঙ্গে এই গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও, তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর অব্যবহিত পরই গ্রুপের সদর দপ্তর ও বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, রপ্তানি আয় দ্রুত কমে যায় এবং ব্যাংকঋণের বোঝা লাফিয়ে বাড়তে থাকে।
সত্তরের দশকে দুই ভাইয়ের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রুপটি বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন। দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্তকারীরা ঋণ জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং অনিয়মিতভাবে ঋণ গ্রহণের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ পঁচিশ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই এসব ঋণ নেওয়া হয়েছিল। পাওনা আদায়ে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও। দুই হাজার চব্বিশ সালের শেষদিকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক প্রায় তেরোশ কোটি টাকার বেশি বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যে গ্রুপের কারখানা, জমি এবং করপোরেট সদর দপ্তর নিলামে তোলার চেষ্টা করেছিল, তবে সেই নিলামে কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি।
শিল্প খাতে এই ধসের মানবিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর। গাজীপুরে অবস্থিত গ্রুপের শিল্পপার্কের প্রায় পনেরোটি টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণপত্র খোলা সম্ভব হয়নি কর্তৃপক্ষের পক্ষে।
উৎপাদন লাইনের প্রায় চুয়াল্লিশ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করার আগে তাদের প্রাপ্য পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন তীব্র সংকটে। প্রায় দুই হাজার প্রশাসনিক কর্মকর্তার মধ্যে বেতন না পেয়ে অধিকাংশই ইতিমধ্যে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে স্থাপনাগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য অবশিষ্ট আছেন পাঁচশর কম প্রশাসনিক কর্মী।
রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত গ্রুপের চৌদ্দতলা সদর দপ্তরটি একসময় ছিল কোলাহলপূর্ণ এক বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখন সেখানকার করিডোরগুলো প্রায় জনশূন্য। যারা এখনো সেখানে আসেন, তাদের একটি অংশ আসেন বকেয়া বেতনের দাবি নিয়ে, আরেকটি অংশ আসেন বন্ডে বিনিয়োগ করে রিটার্ন না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে।
গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ওষুধ কোম্পানি এখনো পূর্ণ ক্ষমতায় চালু আছে, একটি সিরামিক প্রতিষ্ঠান চলছে আংশিকভাবে। অন্যদিকে এলপিজি ইউনিটের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করে সীমিত পরিসরে চালানো হচ্ছে। তবে গ্রুপের সেবা খাত, আবাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজ কার্যালয়ে বর্তমান সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সরকার বদলায়, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু এভাবে টার্গেট করে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়ার নজির অন্য কোনো দেশে আছে কি না, তা তার জানা নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি যুক্তি দেন, মালিকপর্যায়ের অনিয়মকে কারখানা পরিচালনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। তার ভাষায়, ঋণ নিয়েছেন মালিকরা, প্রতিষ্ঠান নিজে কিছু করেনি। তাহলে কেন কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে? একসঙ্গে চুয়াল্লিশ হাজার মানুষকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করার সময় বারবার হাত কেঁপেছিল বলে জানান তিনি, তবে তখন আর কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গ্রুপটি কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি, বরং জটিলতা আরও বেড়েছে। শত শত ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। ফলে কর্মীরা মাসের পর মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
তিনি জানান, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান মূলধন কাজে লাগানো যাচ্ছে না। নিজের বেতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো মাসে অর্ধেক বেতন পান, কোনো মাসে দুই মাস পরে একবার পান। গত চব্বিশ মাসের মধ্যে বারো মাসের বেতনই এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। তারপরও যারা বছরের পর বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, তারা এই কষ্টের মধ্যেও রয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।
গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুধু টেক্সটাইল খাতেই ঋণের পরিমাণ প্রায় তেইশ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে, যার প্রায় চল্লিশ শতাংশই সুদ বাবদ জমেছে। এর বাইরে গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে আরও প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ঋণ থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
গ্রুপের পরিচালনাগত সমস্যাগুলো আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আরও ঘনীভূত হয়েছে। গ্রুপের চেয়ারম্যান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় নতুন অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় করপোরেট সুশাসন ও আইনি সম্মতি বজায় রাখা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
একদিকে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, অন্যদিকে ঋণদাতারা নতুন কোনো অর্থায়নের আগে পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য সম্মতি সংক্রান্ত নথি চাইছে। ফলে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু ও অর্থায়নের জন্য সরকারি সহায়তার প্রত্যাশায় আছে গ্রুপটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন তারা, আর সবার সহযোগিতায় কারখানাগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে গ্রুপের বন্ধ থাকা টেক্সটাইল কারখানাগুলো চালুর একটি বড় উদ্যোগ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। দুই হাজার পঁচিশ সালের আগস্টে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান এবং একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রুপের একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে পনেরোটি কারখানা খোলার কথা ছিল, যার মাধ্যমে পঁচিশ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছিল।
তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভাষ্যমতে, কারখানা সচল হওয়ার একদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে এই চুক্তি সম্পন্ন হবে না, কারণ হিসেবে বলা হয় সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির কোনো সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এতে সবকিছু ঠিকঠাক প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে হতাশ হতে হয় বলে জানান তিনি।
তিনি এখন মনে করছেন, গ্রুপের কারখানাগুলোর পুনরুজ্জীবন অনেকাংশে নির্ভর করছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় নতুন সরকারের প্রতি কিছুটা আশাবাদীও তিনি।
তিনি বলেন, মালিকরা ঋণ নিয়েছেন, সেই ঋণে হয়তো অনিয়মও ছিল। কিন্তু তাই বলে পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকার চাইলে কারখানা চালুর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে, প্রয়োজনে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবিড়ভাবে তদারকিও করতে পারে— তারপরও যেন কারখানাগুলো সচল থাকে, এটাই তার প্রত্যাশা।
গ্রুপের ব্যবসাগুলোর মধ্যে ওষুধ প্রতিষ্ঠানটি এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, পাশাপাশি সিরামিক প্রতিষ্ঠান ও একটি সৌর বিদ্যুৎ পার্কও বিভিন্ন মাত্রায় সচল আছে। শেয়ারবাজারে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক অর্থবছরে বেশ কয়েকশ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
তবে এই ওষুধ প্রতিষ্ঠানও পুরোপুরি সমস্যামুক্ত নয়— নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে রিট মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন পর্ষদ সভা করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিদেশি শেয়ারবাজারে তালিকাচ্যুতির শঙ্কা তৈরি হওয়ার পর বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে সম্প্রতি একটি পর্ষদ সভা করার সুযোগ পেয়েছে তারা।
সিরামিক প্রতিষ্ঠানটিও লাভ-লোকসানের টানাপোড়েনে আছে— এক অর্থবছরে সামান্য মুনাফা করলেও পরের অর্থবছরের একটি প্রান্তিকে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের।
সৌর বিদ্যুৎ পার্কটির অর্থায়নে একটি বিতর্কিত ইসলামি বন্ডের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল গ্রুপটি। এই পার্ক থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দুইশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে এবং প্রতি মাসে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। তবে এই আয়ের সিংহভাগই বিনিয়োগকারীদের সুদ পরিশোধ ও মূলধন ফেরতের তহবিলে জমা রাখতে হচ্ছে— গ্রুপ নিজে পরিচালন ব্যয় বাবদ পাচ্ছে সামান্য একটি অংশ মাত্র।
পুঁজিবাজারেও গ্রুপের কয়েকশ কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে। সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে শেয়ার কিনে দুটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উল্লেখযোগ্য মালিকানা অর্জন করেছিল গ্রুপটি— এর একটি একটি বিমা কোম্পানি, অন্যটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং করপোরেশন। সরকার পরিবর্তনের পর এই দুই কোম্পানি থেকে নিজেদের মনোনীত পরিচালকদের প্রত্যাহার করে নেয় গ্রুপটি, তবে তাদের বিনিয়োগ হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় শেয়ারগুলো এখনো বিক্রি করতে পারছে না তারা।
একইভাবে গ্রুপের নিজস্ব ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। পরিচালকদের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা থাকায় লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি এতদিন। ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়নি, পরে কারাগারে গিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়া হলেও লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একসময়ের অন্যতম শক্তিশালী শিল্পগোষ্ঠীর এই পতন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়— বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে থাকতে পারে, তারও একটি বড় দৃষ্টান্ত। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তি মালিকানার অনিয়মের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান ও তার হাজারো কর্মীর ওপর বর্তানো কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নও এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে নতুন করে সামনে এসেছে।

