চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা নিলামের অযোগ্য, নিম্নমানের এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে ধ্বংস করছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। মোট ১২৬টি কনটেইনারে থাকা প্রায় তিন হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন পণ্য এই ধ্বংস কার্যক্রমের আওতায় পড়ছে। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নির্ধারিত একটি স্থানে এই পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, ধ্বংস করার তালিকায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে চৌত্রিশ কনটেইনার নিম্নমানের খেজুর, চল্লিশ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ এবং আঠারো কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন। এসবের পাশাপাশি পচে বা নষ্ট হয়ে যাওয়া কমলা, পেঁয়াজ ও কাজুবাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পুরো ধ্বংস কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশের একটি সমন্বিত দল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর এলাকায় পড়ে থাকা এসব পচনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ধ্বংস করার এই উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব পণ্য দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে পরিবেশ ও বন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল, তাও এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আরও জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার সমন্বিত সহযোগিতায় নিলামের অযোগ্য এবং ধ্বংসযোগ্য পণ্য পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করার এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই উদ্যোগ জরুরি ভিত্তিতে অব্যাহত রাখা হবে বলেও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব অকেজো ও নষ্ট পণ্যের কারণে বন্দরে কনটেইনার সংকট তৈরি হচ্ছিল, যা নতুন আমদানি পণ্যের খালাস প্রক্রিয়াকেও বিলম্বিত করছিল। নিয়মিতভাবে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

