ব্যবসার ওপর করের চাপ কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভারের ওপর আরোপিত ন্যূনতম কর কমানো বা কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা টার্নওভার করা ব্যবসাগুলোকে টার্নওভারের ভিত্তিতে নির্ধারিত ১ শতাংশ ন্যূনতম কর দিতে হবে না।
২ কোটির বেশি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার হলে করের হার হবে ০.২৫ শতাংশ। ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে দিতে হবে ০.৫০ শতাংশ কর।
আর কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি হলে আগের মতো ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। এরপর এনবিআর সংশ্লিষ্ট বিধান পরিবর্তনের জন্য এসআরও (স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার) আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে পেছনের তারিখে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে টার্নওভারের পরিমাণ যাই হোক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ১ শতাংশ ন্যূনতম কর আরোপ করা হয়। ফলে মুনাফা কম থাকা কিংবা লোকসানে থাকা ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকেও টার্নওভারের ভিত্তিতে কর দিতে হয়। এতে তুলনামূলকভাবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি চাপের মুখে পড়ে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সেই চাপ অনেকটাই কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কম টার্নওভারের প্রতিষ্ঠানগুলো হয় পুরোপুরি ন্যূনতম করের আওতার বাইরে থাকবে, নয়তো আগের তুলনায় অনেক কম হারে কর দেবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো একদিকে ব্যবসার খরচ ও করের চাপ কমানো, অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ও অব্যাহত রাখা। অর্থাৎ করব্যবস্থাকে আরও ব্যবসাবান্ধব করার পাশাপাশি রাজস্ব সংগ্রহের ধারাও ধরে রাখতে চায় এনবিআর।
বর্তমানে দুর্বল চাহিদা, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসার মুনাফা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করছাড় বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ হলেও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও কিছুটা করছাড়ের দাবি রয়েছে।

