গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় আগাম ডলার কেনার চুক্তি করা আমদানিকারকদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যখন ডলারের দর ১২২ টাকার আশপাশে নেমে এসেছিল, তখন অনেক বড় আমদানিকারক ভবিষ্যতের আমদানি ব্যয় মেটাতে আগাম নির্ধারিত দরে ডলার কেনার চুক্তি করেছিলেন। এখন সেই ডলারের দর বেড়ে ১২৩.৫০ টাকায় ওঠায় তাঁদের প্রতি ডলারে এক টাকার বেশি সুবিধা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ডলারের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩.৫০ টাকা। মাত্র ১০ দিন আগে এই দর ছিল ১২২ টাকা। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোষাগার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যৎ পরিশোধের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান আগেই ডলারের দর নির্ধারণ করে রেখেছিল, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় তারা তুলনামূলক কম দামে আমদানি বিল পরিশোধ করতে পারবে।
বিষয়টি শুধু সাময়িক লাভের হিসাব নয়। বরং ডলারের দামের অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসায়ীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, সেটিও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে।
আগাম দর নির্ধারণে ঝুঁকি কমছে
ডলারের বাজারে ভবিষ্যৎ দর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে বড় আমদানিকারকদের অনেকেই আগাম ডলার কেনার ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে পণ্য আমদানি এবং দ্রুত বিক্রি হয় এমন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকেরা এ পদ্ধতি বেশি ব্যবহার করেন। তাঁদের লক্ষ্য থাকে, ভবিষ্যতে ডলারের দাম বেড়ে গেলে যেন আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে না যায়।
এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময় পর কত দরে ডলার কেনা হবে, তা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। ফলে বাজারে পরে ডলারের দাম বেড়ে গেলেও চুক্তিতে নির্ধারিত দরের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় না।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ডলারের দর অস্থির হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কিংবা ভবিষ্যতে দর বাড়তে পারে বলে মনে হলে আমদানিকারকেরা আগাম ডলার কেনার চুক্তির দিকে যান। আন্তর্জাতিক বাজারেও এ ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত।
তবে এর উল্টো দিকও রয়েছে। আগাম চুক্তি করার পর যদি ডলারের দাম কমে যায়, তবুও প্রতিষ্ঠানটিকে আগে নির্ধারিত দরেই ডলার কিনতে হবে। অর্থাৎ এই ব্যবস্থায় মূল সুবিধা হলো দামের অনিশ্চয়তা কমানো; বাজারদর কমে গেলে কম দামে কেনার সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে।
১২২ টাকার দরে চুক্তি, এখন বাজার ১২৩.৫০
সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দর কমতে থাকায় বেশ কয়েকটি ব্যাংকে আগাম ডলার কেনার চাহিদা বেড়েছিল। কিছু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও আমদানিকারক ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য আমদানি ঋণপত্রের অর্থের জন্য আগে থেকেই ডলারের দর বেঁধে নিয়েছে।
একটি বড় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে ৩০ দিনের জন্য ২ কোটি ডলার আগাম চুক্তির মাধ্যমে কিনেছে। প্রতি ডলারের দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২২.৬০ টাকা।
এখন বাজারদর ১২৩.৫০ টাকা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি যদি আজকের বাজারদরে একই পরিমাণ ডলার কিনত, তাহলে তাদের ব্যয় আরও বেশি হতো। অর্থাৎ আগাম চুক্তি করার কারণে বাজারদর বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে প্রতিষ্ঠানটি আপাতত সুরক্ষিত।
একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এক মাস পর একটি পরিশোধের জন্য গত দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি ডলারের দর নির্ধারণ করে রেখেছেন। তখন বাজারদর প্রায় ১২২ টাকা ছিল।
৩০ দিনের জন্য প্রতি ডলারে ২০ পয়সা অতিরিক্ত খরচ ধরলে কার্যকর দর দাঁড়ায় ১২২.৬০ টাকা। ফলে ডলারের দর আরও বাড়লেও প্রতিষ্ঠানটিকে ১২২.৬০ টাকাতেই পরিশোধ করতে হবে। আবার ডলারের দাম কমে গেলেও একই দরে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
অন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহ আগে এক মাস পরিশোধযোগ্য অর্থের জন্য প্রতি ডলার ১২২.২০ টাকা দরে আগাম চুক্তি করেছিল। এর সঙ্গে আগাম চুক্তির অতিরিক্ত খরচ যোগ হওয়ায় তাদের কার্যকর দর দাঁড়িয়েছে ১২২.৮০ টাকা।
অর্থাৎ বর্তমানে বাজারদর ১২৩.৫০ টাকা হলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রতি ডলারে তার চেয়ে কম অর্থ ব্যয় করতে হবে।
কারা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন
বড় পণ্য আমদানিকারক এবং দ্রুত বিক্রি হয় এমন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকেরাই সাধারণত এই সুবিধা বেশি নিতে পারেন। কারণ তাঁদের নিয়মিত বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি পরিশোধ করতে হয়। ডলারের দর সামান্য বাড়লেও বড় অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ে তার প্রভাব উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে।
উদাহরণ হিসেবে, একটি প্রতিষ্ঠান যদি কয়েক কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করে, প্রতি ডলারে এক টাকা পার্থক্যও মোট ব্যয়ে কোটি টাকার পরিবর্তন আনতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যৎ পরিশোধের সময় ডলারের সম্ভাব্য দর সম্পর্কে ধারণা নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আগেই নিজেদের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দর ধারাবাহিকভাবে কমছিল। ফলে গত দুই সপ্তাহে কয়েকটি ব্যাংকে আগাম ডলার কেনার আগ্রহ বেড়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে যারা এ ধরনের চুক্তি করেছে, তারা প্রতি ডলারে ১২৩ টাকার নিচে কার্যকর দরে ভবিষ্যৎ পরিশোধ করতে পারবে। অথচ এক মাস আগেও ডলারের দাম ছিল ১২৪ টাকার বেশি।
এখানেই আগাম চুক্তির তাৎপর্য স্পষ্ট হচ্ছে। বাজারের গতিপথ আগে থেকে পুরোপুরি অনুমান করা সম্ভব না হলেও নির্দিষ্ট দরে ভবিষ্যৎ ব্যয় আটকে রাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের ঝুঁকি কমাতে পারে।
সব আমদানিকারক অবশ্য এই সুবিধা পাচ্ছেন না
আগাম ডলার কেনার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সমানভাবে এই সুবিধা পাচ্ছে না। ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংকগুলো মূলত দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং ভালো ব্যবসায়িক ইতিহাস রয়েছে—এমন আমদানিকারকদেরই এ ধরনের সুবিধা দিতে আগ্রহী।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, অতিরিক্ত মাত্রায় আগাম ডলার বুকিং হলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থা এবং আমদানিকারকদের এ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বর্তমানে অনেক ব্যাংকই এ সুবিধা দেওয়ার অবস্থায় নেই।
ব্যাংকারদের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগাম ডলার কেনার ব্যবস্থা একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি কমায়, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলী মনে করেন, ব্যবসায়ীদের আস্থা ধরে রাখতে আগাম ডলার কেনার ব্যবস্থা যথাযথভাবে চালু থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আগে থেকেই ডলারের দর নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও তুলনামূলক সহজ হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে না থাকায় কী হচ্ছে
ডলারের সাম্প্রতিক দর পরিবর্তনের পেছনে শুধু আমদানিকারকদের চাহিদা নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকারদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজারে ডলার কেনা থেকে বিরত থাকায় ডলারের দর ১২২ টাকার দিকে নেমে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। একটি বেসরকারি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ডলারের দর কমতে শুরু করার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক যদি বাজার থেকে ডলার কিনত, তাহলে হয়তো দর ১২২ টাকায় নামত না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ডলার কিনেছিল ১২২.৮০ টাকা দরে। এ কারণে ব্যাংকারদের একটি অংশ ধরে নিয়েছিল, ডলারের দর ওই মাত্রার কাছাকাছি গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাজারে এসে ডলার কিনবে। কিন্তু গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনেনি।
এর ফলে বাজারে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন এমন একটি দরের অপেক্ষায় রয়েছে, যে পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার ডলার কেনা শুরু করতে পারে।
ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত ডলারও গুরুত্বপূর্ণ
ডলারের দর নির্ধারণে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণও প্রভাব ফেলছে। অনেক ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার নিট উন্মুক্ত অবস্থান এখনো তুলনামূলক বেশি। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের তুলনায় কিছু ব্যাংকের হাতে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে।
এই অবস্থায় কম দরে ডলার বিক্রি করতে অনেক ব্যাংক অনাগ্রহী। কারণ আগে বেশি দরে কেনা ডলার এখন কম দরে বিক্রি করলে তাদের হিসাবেও ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সব ব্যাংক সমান আগ্রহ নিয়ে তা বিক্রি করছে না। এর প্রভাব পড়ছে দর নির্ধারণে।
একজন ব্যাংকারের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি বাজারে ডলার কেনা থেকে দূরে থাকে, তাহলে ডলারের দর আরও কমতে পারে। তাই ব্যাংকগুলো এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন পর্যায়ে আবার ডলার কেনা শুরু করবে, তা পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে ডলারের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিক্রেতা হিসেবে বাজারে সক্রিয় হতে পারে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনের সময় ডলার বিক্রি করলে বাজার আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ডলার ধরে রাখার প্রবণতা কমাতে পারে এবং বিনিময় হারও তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকতে পারে।
সরকারি পরিশোধেও বদল আসছে
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমা বা বাড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারের ডলার পরিশোধের পরিমাণ।
ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রবাসী আয়ভিত্তিক ডলারের বিনিময় হার প্রায় এক টাকা কমে ১২৩.৬০ টাকা থেকে ১২২.৬০ টাকায় নেমেছিল। এরপর তা আরও কমে ১২২ টাকায় আসে।
এদিকে চলতি মাসে সরকারের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধের দায় রয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারের এসব বড় অঙ্কের ডলার পরিশোধ বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। গত মাসে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সরকারি পরিশোধ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছিল। ব্যাংকারদের মতে, এর প্রভাবেই সে সময় ডলারের দর বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল।
এখন সেই চাপের একটি অংশ কমে আসায় বাজারের চিত্রও বদলাতে পারে।
সামনে ডলারের দর কোন দিকে
আগাম ডলার কেনা আমদানিকারকদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কারণ ডলারের দর একদিকে সরকারি পরিশোধ, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজারে হস্তক্ষেপ এবং আমদানিকারকদের ভবিষ্যৎ চাহিদার ওপর নির্ভর করছে।
চলতি সপ্তাহে সরকারের কিছু আমদানি ঋণপত্রের পরিশোধ হওয়ার কথা রয়েছে। এসব পরিশোধ শেষ হলে ডলারের চাহিদায় কিছুটা চাপ কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজারে ডলারের দর আরও কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বড় আমদানিকারকদের মধ্যে এখন আরেক ধরনের হিসাব শুরু হয়েছে। তাঁরা দেখছেন, ডলারের দাম ১২৩.৫০ টাকা থেকে আবার কমে যাবে কি না। যদি আরও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাহলে আগাম ডলার কেনার আগ্রহ কমতে পারে। বিপরীতে ডলারের দাম আবার বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আগাম চুক্তির চাহিদা বাড়তে পারে।
একজন বেসরকারি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বড় আমদানিকারক গোষ্ঠীগুলো এখন মূল্য আরও কমবে কি না, তা মূল্যায়ন করছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে ডলারের পরবর্তী গতিপথের ওপর।
সব মিলিয়ে ডলারের বর্তমান বাজারে একদিকে আগাম চুক্তি করা আমদানিকারকেরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। সরকারের বড় অঙ্কের পরিশোধ শেষ হলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তখন ডলারের দর আরও নিচে নামার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বাজারের এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে সামনে আমদানি চাহিদা, সরকারি পরিশোধ, ব্যাংকগুলোর ডলার বিক্রির সক্ষমতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজারে ভূমিকার ওপর। তাই বর্তমানে ১২৩.৫০ টাকা দরে ডলার থাকলেও ব্যবসায়ীদের কাছে মূল প্রশ্ন এখন একটাই—এটি কি সাময়িক উত্থান, নাকি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার শুরু।

