সরকারের কাছ থেকে রেমিট্যান্স প্রণোদনার অর্থ সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় বাড়ছে ব্যাংকগুলোর আর্থিক চাপ। প্রণোদনা বাবদ ব্যাংকগুলো নিজেদের তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধ করলেও সরকারের কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে কয়েক বিলিয়ন টাকা ব্যাংকগুলোর পাওনা হিসেবে আটকে আছে।
ব্যাংকারদের আশঙ্কা, এই বকেয়া দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয় আনতে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ কমে যেতে পারে। কারণ রেমিট্যান্স সংগ্রহ বাড়াতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস ও অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রচার চালানো এবং বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হয়।
সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনার অর্থ ফেরত পেতে দেরি হলে এসব ব্যয়ের বোঝা দীর্ঘ সময় ব্যাংকের ওপরই থেকে যায়। এতে নতুন করে রেমিট্যান্স আকর্ষণে বিনিয়োগ ও প্রচারণা চালানোর সক্ষমতা এবং আগ্রহ—দুটিই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ চাপ সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ছোট ও তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর। বড় ব্যাংকের তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত অর্থ আটকে রাখার সক্ষমতা কম। ফলে প্রণোদনার টাকা ফেরত পেতে বিলম্ব হলে তাদের তারল্য ব্যবস্থাপনায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
ব্যাংকাররা বলছেন, সরকারের কাছে বড় অঙ্কের পাওনা জমে থাকায় ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও দায় ব্যবস্থাপনাও জটিল হয়ে উঠছে। রেমিট্যান্স প্রণোদনা দিতে ব্যাংকগুলো যখন নিজেদের তহবিল ব্যবহার করছে, তখন সেই অর্থ ফেরত না আসা পর্যন্ত তারল্যের একটি অংশ কার্যত আটকে থাকছে। অথচ এই অর্থ থেকে ব্যাংক কোনো আয়ও করতে পারছে না।
এর প্রভাব শুধু ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি নেই। দীর্ঘদিন প্রণোদনার অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে রেমিট্যান্স পাঠানো গ্রাহকদের মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। ব্যাংক ও বৈধ অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ কমে গেলে কিছু প্রবাসী বিকল্প হিসেবে অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি চ্যানেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, চলতি হিসাবের ভারসাম্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাই ব্যাংকারদের মতে, রেমিট্যান্স প্রণোদনার অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা শুধু ব্যাংকগুলোর পাওনা মেটানোর বিষয় নয়; বৈধ পথে প্রবাসী আয় ধরে রাখা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ স্থিতিশীল রাখার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

