দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪০টি সিএনজিচালিত বাস কিনে আগামী বছর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে যুক্ত করার উদ্যোগ এগিয়েছে। বাস কেনার জন্য একটি কোরিয়ান কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব নির্বাচিত হওয়ার পর এখন তা সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান—পসকো ইন্টারন্যাশনাল, কেজিএম করপোরেশন ও জাইল ডেইউ—নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবকে বিআরটিসির মূল্যায়ন কমিটি নির্বাচিত করেছে। এ প্রস্তাবে এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সম্মতিও পাওয়া গেছে। এখন প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন।
প্রকল্প পরিচালক কর্নেল কাজী আয়ুব আলী জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত বাস কেনার জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা সম্ভব হলে এলসি খোলার মাস থেকে ১৫ মাসের মধ্যে বাসগুলো দেশে পৌঁছাতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আহ্বান করা দরপত্রে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ না নেওয়ায় মূল্যায়ন কমিটি শুধু কোরিয়ান কনসোর্টিয়ামের একটি প্রস্তাবই বিবেচনা করেছে।
বিআরটিসি মূলত ২০২৪ সালেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সিএনজিচালিত এসব বাস কেনার পরিকল্পনা করেছিল। এর আগে ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু কোরীয় পক্ষের দীর্ঘ সময়ের নীরবতা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগে গেছে।
প্রকল্পটি শুরুতে ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। পরে এক বছর সময় বাড়ানো হলেও বাস কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি বিআরটিসি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়। তবে এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না।
৩৪০টি বাস কেনার নির্ধারিত মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বাসগুলোর জন্য যে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) অর্থায়নে ১৪০টি সিটি বাস এবং ২০০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আন্তঃজেলা বাস কেনা হবে। এর মধ্যে ১৪০টি বাস নগর পরিবহনে এবং বাকি ২০০টি আন্তঃজেলা রুটে পরিচালনা করা হবে।
প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলেও মোট ব্যয় অপরিবর্তিত থাকছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক কাজী আয়ুব আলী বলেন, শুধু বাস কেনাই নয়, প্রকল্পের আওতায় বাস ধোয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বর্তমানে বিআরটিসির বহরে প্রায় ১ হাজার ২০০ বাস রয়েছে। এসবের বেশির ভাগ ভারত থেকে কেনা হলেও চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও বাস রয়েছে। নতুন ৩৪০টি কোরিয়ান বাস আগামী বছর দেশে এলে বিআরটিসির মোট বাসের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে।
কয়েক বছরের মধ্যে এটিই বিআরটিসির বহরে সবচেয়ে বড় সংযোজন হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের কাছ থেকে ৬০০টি বাস কেনার মাধ্যমে বড় ধরনের বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় সেই ৬০০ বাস কেনার প্রক্রিয়া ওই বছর শেষ হয়।

