রাজধানীর বাজারে গত দুই সপ্তাহে সবজি, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক পণ্যই এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ৬, ১২, ১৩ ও শেওড়াপাড়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। এক কেজি পটোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং এক পিস চালকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার ও জাতভেদে বেগুনের দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
দেশি শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ও ঢেঁড়সের দাম কেজিতে ৮০ টাকা করে। কচু ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা এবং বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাপসিকামের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা। ঝিঙা ৮০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা, আর চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
গাজরের দাম প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা। ছোট আকারের ফুলকপি প্রতিটি ১০০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক আঁটি লালশাকের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। কলমিশাক ও লাউশাক ১৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পালংশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও চড়া দাম দেখা গেছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দামও বেশ চড়া। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রুই ও কাতলা মাছের দাম প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা। গ্রাস কার্প ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছ ৫০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা এবং বাইম ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বেলে ও ছোট চিংড়ির দাম প্রতি কেজি ৯০০ টাকা। বড় চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে। আর বোয়াল মাছের দাম কেজিতে ৮০০ টাকা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দামও কম নয়। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারে পণ্যের দাম মূলত পাইকারি বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচও যুক্ত হয়। দিনের শেষে কিছু পণ্য অবিক্রীত থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষতিও ব্যবসায়ীদের হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি মিলিয়ে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে এর সরাসরি চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

