পোশাকশ্রমিকদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করতে অবসরের বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে কর্মীদের এই ব্যবস্থায় আগ্রহী করে তুলতে প্রথম দুই বছর বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের মিলনায়তনে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সভায় বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হলে পোশাকশ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ বাড়বে। একই সঙ্গে এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো তুলে ধরে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি কর্মী রয়েছে—এমন সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তিনি প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে বিজিএমইএর প্রতি আহ্বান জানান।
ড. সুরাতুজ্জামান জানান, পেনশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে সরকার প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমান ব্যবস্থায় ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে পেনশন তহবিলে নিয়মিত অর্থ জমা দিতে পারবেন। ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তারা মাসিক পেনশন পাবেন।
কোনো গ্রাহক ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি জমা দেওয়া অর্থ ও এর ওপর প্রাপ্য মুনাফা পাবেন। এ ছাড়া কারও আর্থিক সংকট দেখা দিলে তার সক্ষমতা অনুযায়ী পেনশনে অবদানের পরিমাণে নমনীয়তার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনায়েত হোসেন খান বলেন, দেশের প্রায় ৫০ লাখ পোশাকশ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে তা পরিচালনা করা বাস্তবিকভাবেই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রিয়াজওয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আকর্ষণীয় হারে মুনাফার সুযোগ থাকায় এটি শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচিটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য বিজিএমইএ একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করছে বলেও জানান তিনি।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান ছাড়াও বিজিএমইএর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, পোশাক কারখানার মালিক, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

