ভবিষ্যতের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে আরও সক্ষম করে তুলতে ৩০ কোটি ডলারের একটি অর্থায়ন প্যাকেজ বিবেচনা করছে বিশ্বব্যাংক।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি উপকূলীয় জেলা রক্ষায় বাংলাদেশ সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের কাছে এই আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যায় এসব এলাকায় প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই পরিস্থিতির পর প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা কমিশন একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (PDPP) তৈরি করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার লক্ষ্যেই প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে।
‘ফ্লাড রেজিলিয়েন্ট কোস্টাল ডিস্ট্রিক্ট প্রজেক্ট’ নামের প্রস্তাবিত প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইআরডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দাতা সংস্থাটির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) প্রকৌশলী রবিন কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীর আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এগিয়ে এলে তা দেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জেলাগুলোর অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানুষের জীবিকা পুনরুদ্ধারে তিনটি সরকারি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে। সমন্বিতভাবে এসব সংস্থা অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষি পুনর্বাসনের কাজ করবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ নদী ও উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ এবং পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করবে। এসব বাঁধ ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঠেকানো, জোয়ারের পানিতে প্লাবন কমানো এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার আগ্রাসন মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো পুনর্গঠন করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীল সড়ক নির্মাণ করা হবে, যাতে দুর্যোগের সময় বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকে।
অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করবে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি, লবণাক্ততা সহনশীল বীজ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। এতে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকেরা ভবিষ্যতের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন।

