ডলারের দাম আবারও বাড়ল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ০৩ পয়সায়, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এক মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত এই দরের চেয়ে খোলাবাজারে ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে আরও বেশি। শুধু ডলার নয়; ইউরো, পাউন্ড, ইউয়ান, ইয়েন, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারসহ প্রায় সব প্রধান মুদ্রার দামই বেড়েছে। শুধু ভারতীয় রুপির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে。
মুদ্রাবাজারের এই ওঠানামা আসলে আকস্মিক কিছু নয়। কয়েক মাস ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট, অস্থির আন্তর্জাতিক বাজার এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির কারণে টাকার মান ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ে, আর বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি তেলের বড় অংশ আমদানি করে, সেহেতু তেলের দাম বাড়লে ডলারের চাহিদাও বাড়ে। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ে, এটাই বাজার অর্থনীতির সহজ নিয়ম। আবার প্রবাসীরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, তা ডলারে আসে, এই ডলারের জোগান কমলে বা বিলম্বিত হলে বাজারে চাপ পড়ে।
একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক যে বিনিময় হার প্রকাশ করে, সেটি মূলত একটি রেফারেন্স রেট। বাজারে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জগুলো এই হারের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে ডলার বিক্রি করে। কারণ ব্যাংকগুলোর নিজেদের খরচ, মুনাফা এবং চাহিদার চাপ যোগ হয়ে যায় এর সঙ্গে। সেই হিসেবে খোলাবাজারে ডলার কিনতে গেলে ১২৪ থেকে ১২৫ টাকার ঘরে গুনতে হতে পারে। আবার যারা রেমিট্যান্স বা রপ্তানি আয়ের ডলার রূপান্তর করবেন, তারা পাবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার থেকে সামান্য কম দাম।
বিনিময় হারের এই ওঠানামার প্রভাব পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচে। আমদানিকারকদের জন্য ডলারের দাম বাড়া মানে পণ্য আমদানির খরচ বাড়া, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর। আবার রপ্তানিকারকদের জন্য ডলারের দাম বাড়া সুখবরও বটে, কারণ তারা টাকায় বেশি রেমিট্যান্স পাবেন। তবে অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, আর এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিময় হারে সুস্থিতি আনার জন্য রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো জরুরি।
আগামী দিনে ডলারের দাম কোন দিকে যাবে, সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কতটা নামে, আর প্রবাসী আয় কতটা বাড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে আপাতত মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কাটেনি, যার প্রভাব পড়ছে প্রতিদিনের লেনদেনে।

