বিস্কিট ও ব্রেডের দাম একবারে বিশ শতাংশ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীরা নিয়েছিলেন, তা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা এই মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে একটি পর্যালোচনা কমিটি, যাদের সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গত শনিবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া দাম বাড়ানোর ঘোষণা এবং এর পেছনে ব্যবসায়ীদের দেখানো কারণ। বৈঠকে বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রকৃত খরচ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ আলোচনার পর ব্যবসায়ী নেতারা নিজেরাই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে রাজি হন। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যাদের কাজ হবে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য পরিবর্তন, প্রযোজ্য কর ও শুল্কসহ প্রাসঙ্গিক সব বিষয় খুঁটিয়ে দেখা। এই কমিটির পর্যালোচনা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করেই ভোক্তা ও সাধারণ জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌক্তিক দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
এই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ছাড়াও বেকারি পণ্য ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সব পক্ষের এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত আগামী কয়েক দিনের জন্য বাজারে বিস্কিট ও ব্রেডের দাম অপরিবর্তিত থাকছে বলেই ধারণা করা যায়। তবে কমিটির প্রতিবেদনের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ভোক্তাদের জন্য এই পণ্যগুলোর ভবিষ্যৎ মূল্য কাঠামো।

