ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ভুল তালিকা ও ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা কমাতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ডিজিটাল কার্ড, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, একীভূত পয়েন্ট অব সেলস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তাৎক্ষণিক নজরদারি যুক্ত হবে। এর ফলে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি পণ্য বিতরণ ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর টিসিবির সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং দেশের পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি টিসিবির প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যবস্থাপনাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরবরাহব্যবস্থা এখনো সব ক্ষেত্রে নির্বিঘ্ন ও কার্যকর হয়নি। উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য রাজধানী কিংবা বিভিন্ন শহরের খুচরা বাজারে পৌঁছানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে দামের বড় পার্থক্য তৈরি হয়। আবার কোনো কোনো সময়ে সরবরাহ কমে গেলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এমন বাস্তবতায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে টিসিবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে টিসিবির সেবায় জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থে দেওয়া ভর্তুকির সুবিধা যাতে প্রকৃতভাবে নির্বাচিত মানুষের কাছেই যায়, সে ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম পরিবর্তন আসছে উপকারভোগীদের পরিচয় যাচাইয়ে। টিসিবির ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রচলিত কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও সেবা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোড ব্যবহার করে একজন উপকারভোগীর পরিচয় এবং তিনি পণ্য পাওয়ার জন্য যোগ্য কি না, তা যাচাই করা হবে।
এর ফলে প্রচলিত কার্ড হারিয়ে গেলে কিংবা কোনো কারণে সেটি নষ্ট হয়ে গেলেও একজন প্রকৃত উপকারভোগী শুধু কার্ড না থাকার কারণে পণ্য থেকে বঞ্চিত হবেন না। ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁর তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে কার্ডকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বিতরণব্যবস্থায় অনিয়মের সুযোগও কমতে পারে।
টিসিবির ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনাতেও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ, আবেদনকারীর তথ্য সংরক্ষণ এবং নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ ডিজিটালভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ডিলার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নথিপত্র ও তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে।
একই এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আবেদনকারী থাকলে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার বাছাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এতে হাতে-কলমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট কালেকশন চালু হলে ডিলারদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে।
পণ্য বিক্রির জায়গাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। অল-ইন-ওয়ান পয়েন্ট অব সেলস বা পিওএস ব্যবস্থায় পণ্য বিক্রির পাশাপাশি উপকারভোগীর বায়োমেট্রিক যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদ দেওয়ার সুবিধা থাকবে। অর্থাৎ একজন গ্রাহক পণ্য নেওয়ার সময় তাঁর পরিচয় যাচাই থেকে শুরু করে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ—পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কত পরিমাণ পণ্য বিতরণ হচ্ছে, কত বিক্রি হচ্ছে এবং কোথাও অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে কি না—এসব তথ্য দ্রুত পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ তৈরি হবে। কোনো এলাকায় বিতরণব্যবস্থায় অসঙ্গতি দেখা দিলে তা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হতে পারে।
এআইভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগও রয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা টিসিবির সেবা, পণ্য বিতরণ, যোগ্যতা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সাধারণ মানুষের জন্য সেবাটি আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উপকারভোগীর তালিকা পরিশুদ্ধ করা। জাতীয় পরিচয়পত্র, মুঠোফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে।
ভর্তুকির অর্থ ব্যবহারে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তি থাকলে সরকারি সহায়তার একটি অংশ প্রকৃত দরিদ্র বা নিম্নআয়ের মানুষের কাছে না গিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে বড় একটি সংখ্যক অযোগ্য আবেদনকারীকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগকে টিসিবির ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ মানুষ টিসিবির বিভিন্ন সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। অর্থাৎ উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের তথ্য যাচাই ও পণ্য বিতরণব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। কারণ সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ৭৯ লাখ থেকে এক কোটিতে পৌঁছালে পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, ডিলার ব্যবস্থাপনা এবং বিতরণের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি এসব কাজের তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ করতে পারে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করাও সমান জরুরি।
টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তরের আর্থিক দিকও সামনে এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কারণে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ অযোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া, বিতরণব্যবস্থায় নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যও রাখা হয়েছে।
আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, উপকারভোগী বাছাই এবং ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়িয়ে ভর্তুকির অপচয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একই পরিমাণ সরকারি অর্থ দিয়ে আরও বেশি প্রকৃত উপকারভোগীকে সহায়তা করা সম্ভব হতে পারে।
টিসিবির এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু প্রযুক্তি যুক্ত করার বিষয়টি নয়, বরং সরকারি ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে। উপকারভোগীর পরিচয়, পণ্য গ্রহণের তথ্য, লেনদেন, ডিলারের কার্যক্রম এবং পণ্য বিতরণের পরিমাণ যদি একই ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা তুলনামূলক সহজ হবে।
বিশেষ করে বায়োমেট্রিক যাচাই ও কিউআর কোডভিত্তিক পরিচয় ব্যবস্থার কারণে একজন ব্যক্তি একাধিকবার পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করলে তা শনাক্ত করার সুযোগ বাড়তে পারে। একইভাবে কোনো ডিলারের বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় জমা হলে অস্বাভাবিক লেনদেন বা বিতরণে অসঙ্গতি শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে এসব প্রযুক্তি কার্যকর রাখতে তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
টিসিবির মতো বৃহৎ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলো সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা। নিম্নআয়ের অনেক মানুষ স্মার্টফোন, অ্যাপ বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় অভ্যস্ত নাও হতে পারেন। তাই ডিজিটাল সেবা চালুর পাশাপাশি সহায়তা কেন্দ্র, সহজ যাচাই ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প সেবা রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ডিজিটাল ডিলার ব্যবস্থাপনাও শুধু আবেদন গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। ডিলারের হাতে পণ্য পৌঁছানো থেকে শুরু করে বিক্রির পরিমাণ, মজুত এবং অর্থ পরিশোধ—প্রতিটি ধাপে তথ্যের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটি ধাপে তথ্যের ঘাটতি থাকলে পরবর্তী পর্যায়ের নজরদারিও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
এআইভিত্তিক নজরদারির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপুল তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর। তাই মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মান, ডেটাবেসের নিয়মিত হালনাগাদ এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর সফল হলে ভর্তুকি পণ্য বিতরণের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আগে যেখানে কার্ড, কাগজপত্র ও স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। এতে উপকারভোগী থেকে শুরু করে ডিলার এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা—সব পর্যায়ের তথ্য এক জায়গায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ বড় হওয়ায় এই খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার গুরুত্বও অনেক। ভর্তুকি দেওয়া হয় মূলত বাজারদরের চাপ সামলে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমানোর জন্য। কিন্তু সুবিধা যদি প্রকৃত উপকারভোগীর পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তির কাছে যায়, তাহলে সেই নীতির উদ্দেশ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা পরিশুদ্ধ করা এবং বিতরণের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষায়, প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হবে মানুষের সেবা সহজ করা এবং সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিজিটাল টিসিবির কার্যক্রম কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তি, জনবল, মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যনিরাপত্তার সমন্বয়ের ওপর।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিসিবির ডিজিটাল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর তাই কেবল একটি নতুন অ্যাপ বা কার্ড চালুর উদ্যোগ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উপকারভোগীর তথ্য যাচাই, ডিলার নিয়োগ, পণ্য বিক্রি, আর্থিক লেনদেন, মজুত ও বিতরণ পর্যবেক্ষণ এবং ভর্তুকির অর্থের কার্যকর ব্যবহার। পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি সহায়তা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রযুক্তির মাধ্যমে টিসিবির সেবা এমন পর্যায়ে নেওয়া, যেখানে একজন প্রকৃত উপকারভোগী সহজে তাঁর প্রাপ্য পণ্য পাবেন এবং একই সঙ্গে সরকারি অর্থের প্রতিটি ধাপের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রায় এক কোটি মানুষকে ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য সামনে রেখে টিসিবির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে ডিজিটাল কাঠামোকে মাঠপর্যায়ে নির্ভরযোগ্য, সহজ এবং কার্যকর করে তোলা।

