দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটি রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। এ সময়ে মোংলা বন্দরের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এসব তথ্য জানান। সভায় বাগেরহাট ও মোংলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় করে বন্দরটি। বছর শেষে প্রকৃত রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
শুধু রাজস্ব আয় নয়, বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি জাহাজ এসেছে। একই সময়ে বন্দরে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন পণ্য ওঠানামা করেছে।
এ ছাড়া কনটেইনার পরিবহনেও অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে বন্দরে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ কনটেইনার পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি পুনঃসংস্কার করা গাড়ি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে মোংলার কার্যক্রমে গতি এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণে এই বন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সক্ষমতা আরও বাড়াতে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ, কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ইয়ার্ড উন্নয়নের মতো উদ্যোগ রয়েছে।
তবে মোংলা বন্দরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখা। নিয়মিতভাবে এই নৌপথ সচল রাখা না গেলে বড় জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে শুধু বন্দরের কার্যক্রম নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন বিনিয়োগ, শিল্প স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই বন্দর ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোংলা বন্দরের সর্বশেষ রাজস্ব আয় ও কার্যক্রমের অগ্রগতি দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নাব্যতা রক্ষা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

