দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কাতার থেকে আরও দুইটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে অতিরিক্ত দুইটি এলএনজি চালান সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় এসব এলএনজি আমদানি করা হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে দুটি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চালান আসবে ৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় চালান আসবে ২২ নভেম্বর।
এই দুই চালানের জন্য এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্য থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ০ দশমিক ০২ ডলার কম দামে।
সরকার জানিয়েছে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতেই অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুইটি এলএনজি কার্গোর সরবরাহকারী হিসেবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উত্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প কারখানা এবং নগর এলাকার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কারণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমাতে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নও প্রয়োজন।
কাতার থেকে অতিরিক্ত দুইটি এলএনজি কার্গো আমদানির এই সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বর মাসে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে সরকার।

