চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বৈদেশিক ঋণ প্রবাহে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা। জুলাই থেকে আগস্ট—এই দুই মাসে দেশে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে মাত্র সাড়ে ২৯ কোটি ডলার, বিপরীতে আগে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ মেটাতে গিয়ে খরচ হয়ে গেছে প্রায় ৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ নতুন ঋণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ চলে গেছে পুরোনো দেনা মেটাতে।
রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের এই অঙ্ক নতুন ঋণ গ্রহণের তুলনায় প্রায় দুইশো সাঁইত্রিশ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে এ বছর জুলাই-আগস্টে যে পরিমাণ ঋণ ছাড় হয়েছে, তা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সিকিভাগেরও কম—মাত্র চল্লিশ শতাংশ।
ইআরডির তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে মোট পঁচাত্তর কোটি ডলার এসেছিল দাতাদের কাছ থেকে। এবার সেই জায়গায় এসেছে মাত্র উনত্রিশ কোটি পঁয়তাল্লিশ লাখ ডলার, যার পুরোটাই এসেছে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসেবে। এই অর্থের সবচেয়ে বড় উৎস এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, যারা দিয়েছে বারো কোটি সাতাশি লাখ ডলার। এর পরেই আছে বিশ্বব্যাংক, যাদের কাছ থেকে এসেছে সাত কোটি ঊনচল্লিশ লাখ ডলার, এবং জাপান দিয়েছে প্রায় চার কোটি ডলার।
অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ প্রতিবছরই বাড়ছে বলে জানা গেছে। শুধু চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই সরকারকে গুনতে হয়েছে ঊনসত্তর কোটি ঊননব্বই লাখ ডলার, যার মধ্যে আসল বাবদ গেছে একান্ন কোটি ষাট লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ গেছে আঠারো কোটি আটাশ লাখ ডলারের বেশি। তুলনামূলকভাবে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে খরচ হয়েছিল প্রায় সাতষট্টি কোটি ডলার, অর্থাৎ পরিশোধের বোঝা বছরের ব্যবধানে আরও বেড়েছে।
তবে ভবিষ্যতের ঋণ প্রতিশ্রুতির চিত্রও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। জুলাই-আগস্টে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র চব্বিশ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের সমান পরিমাণেই স্থির রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে, কারণ ঋণ পরিশোধের চাপ যেভাবে বাড়ছে, তার তুলনায় নতুন অর্থপ্রাপ্তি ও প্রতিশ্রুতি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

