রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের জন্য পৃথক রপ্তানি কৌশল তৈরি করছে সরকার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, রাশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, ইরান, ব্রাজিল, তুরস্ক, জাপান, কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির জন্য আলাদা বাজারভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, এসব দেশের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান বাধা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ বিশ্লেষণ করে এই কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।
তার মতে, শুধু নতুন বাজার খোঁজা নয়, বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারকেন্দ্রিক। তবে নির্বাচিত ১৮টি দেশের অধিকাংশ বাজারে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করলেও পরিমাণ এখনো তুলনামূলক কম।
বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের মতো বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি কমেছে। এসব বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি এবং বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশের মোট আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিশ্লেষণ করা হবে।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোন পণ্যের সম্ভাবনা বেশি, কোন বাজারে প্রবেশ সহজ এবং কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন—তা নির্ধারণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য শুধু পণ্যের ক্ষেত্রে নয়, সেবাখাতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পণ্যের পাশাপাশি সেবা রপ্তানির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক সেবা এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিক পণ্য, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো শক্তিশালী হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—একদিকে নতুন বাজারে প্রবেশ, অন্যদিকে বিদ্যমান বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অংশীদারত্ব বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদে এটি রপ্তানি আয় স্থিতিশীল করতে এবং একক খাতনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

