বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিনথেটিক কাঁচামাল উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক সিনটেক্স লিমিটেডের সঙ্গে ৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘আধুনিক জ্বালানি সাশ্রয়ী পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন প্রকল্প’-এর আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে আধুনিক সিনটেক্স তাদের পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১০৭ টন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪০৭ টনে।
প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মানের পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন করবে, যা উন্নতমানের বস্ত্র ও পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এডিবির বাংলাদেশে নিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝ্যাং বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও সিনথেটিক কাঁচামালের ক্ষেত্রে এখনো আমদানির ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে।
তার মতে, এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশে পলিয়েস্টার চিপের উৎপাদন বাড়বে, স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং উচ্চমূল্যের বস্ত্র উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের আওতায় আধুনিক জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং প্রায় ২ হাজার ২২২ টন কার্বন নিঃসরণ কমবে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভবন ও কারখানার জন্য পরিবেশবান্ধব স্থাপনার স্বীকৃতি অর্জনের উদ্যোগ নেবে।
এই সম্প্রসারণের ফলে দেশে পলিয়েস্টার চিপের সরবরাহ বাড়বে এবং বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে পোশাক ও বস্ত্র উৎপাদকদের জন্য উৎপাদন সময় কমানো এবং কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ১০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আধুনিক সিনটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সুফিয়ান চৌধুরী বলেন, এডিবির সহায়তা প্রতিষ্ঠানটির পলিয়েস্টার চিপ উৎপাদন সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বস্ত্র শিল্পও উপকৃত হবে।
আধুনিক সিনটেক্স টিকে গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম ধারাবাহিক পলিমার উৎপাদন কারখানা পরিচালনা করছে।
প্রতিষ্ঠানটি পলিয়েস্টার চিপ, কৃত্রিম সুতা এবং আঁশজাতীয় পণ্য উৎপাদন করে, যা মূলত দেশের বস্ত্র উৎপাদনকারীরা ব্যবহার করেন।
মিরসরাইয়ের এই কারখানাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি হওয়ায় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিয়েস্টার চিপের মতো কাঁচামালের দেশীয় উৎপাদন বাড়লে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

