ঢাকার পাঙ্গাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালে (পিআইসিটি) কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ বাড়তে শুরু করায় এর অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন আমদানি-রপ্তানিকারকদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হওয়া এই টার্মিনালের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আহ্বান করেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনালের ২২ একর খালি জমিতে পণ্য ও কনটেইনার পরিচালনার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁজছে। এ জন্য ২২ বছরের জন্য উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঙ্গাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালটি ২০১৩ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কেরানীগঞ্জে নির্মাণ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি তৈরি করে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের চাপ কমানো এবং নৌপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়ানো ছিল এই টার্মিনাল নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য।
টার্মিনাল উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৪৮ দশমিক ২৪ একর জমি ইজারা নেয়। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএর ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালটি ২৬ একর জমিতে পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ২২ একর জমি এখনো খালি রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পাঙ্গাঁও টার্মিনাল প্রত্যাশিত ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। উচ্চ নৌপরিবহন ব্যয়, কাস্টমস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে আমদানি-রপ্তানিকারকরা এই পথ ব্যবহারে আগ্রহ দেখাননি।
তবে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মেডলগ বাংলাদেশের পরিচালনায় যাওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাঙ্গাঁও টার্মিনালে মাসে গড়ে মাত্র ২৪২ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা হতো। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৬৬ টিইইউতে দাঁড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাসিক গড় কনটেইনার পরিচালনার পরিমাণ প্রায় ৯০০ টিইইউতে পৌঁছেছে।
মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম আনিসুল মিল্লাত জানান, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই টার্মিনালের কনটেইনার পরিবহন আগের পুরো বছরের মোট ৪ হাজার ৪০০ টিইইউ পরিমাণকে ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, পাঙ্গাঁও টার্মিনালের ২২ একর খালি জমির উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য দরপত্রে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দরপত্র অনুযায়ী, আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা তাদের মূল কোম্পানির কনটেইনার জাহাজে ওঠানো-নামানো, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এছাড়া নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও জনবল ব্যবহার করে দেশ বা বিদেশের কোনো অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর বা টার্মিনালে বছরে অন্তত ৭০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঙ্গাঁও টার্মিনালের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো গেলে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক ও রেলপথের ওপর চাপ কমিয়ে নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

