যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক সমন্বয় নীতিতে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প কিছু সম্ভাবনার সুযোগ পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের লাভের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ, যে ধরনের বিশেষায়িত ওষুধে এই শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বড় অংশ এখনো বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপাদানের ওপর শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, পারমাণবিক চিকিৎসার ওষুধ, রক্ত থেকে তৈরি চিকিৎসা পণ্য, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ওষুধ, কোষ ও জিন চিকিৎসার পণ্য এবং বিশেষায়িত কিছু জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর ওষুধ।
তবে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সুবিধা পেলেও বর্তমান সক্ষমতার কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় আকারে রপ্তানি বাড়াতে পারবে না।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক শওকত হায়দার বলেন, বাংলাদেশ এখনো অত্যন্ত জটিল ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ওষুধ উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে নতুন শুল্ক সুবিধা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
তার মতে, এসব বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদনের জন্য বড় বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান প্রাণিস্বাস্থ্য পণ্য উৎপাদন করলেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রিত বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য এখনো সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো প্রতিষ্ঠিত উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এ ধরনের বিশেষায়িত ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে না। তবে ভবিষ্যতে এই সুবিধা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের ওষুধ খাতে কিছু সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে কোন কোন পণ্যে বাস্তবে সুযোগ তৈরি হবে তা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তার মতে, উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের সক্ষমতার ওপরই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নির্ভর করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প সাধারণ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে শক্ত অবস্থানে থাকলেও জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চ প্রযুক্তির ওষুধ উৎপাদনে এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
তাই শুধু শুল্ক সুবিধা পাওয়া নয়, বরং গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে।

