দেশের স্বর্ণের বাজারে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণের পর বর্তমানে দেশে স্বর্ণের তৈরি গয়নার দাম আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গয়না এখন প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়। এর মধ্যে মূল্য সংযোজন করও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্য ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নতুন মূল্য ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব স্বর্ণের দোকানে এই দাম কার্যকর থাকবে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের দামও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এই ধরনের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা। অন্যদিকে আধুনিক মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আরও বেশি রয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গয়নার পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। আর ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের গয়না বিক্রি হচ্ছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকায়।
স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের গয়না বাজারে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্বর্ণ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু অলংকার নয়, বরং সঞ্চয় ও নিরাপদ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়ে আসছে। তাই স্বর্ণের দামের পরিবর্তন সরাসরি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার মূল্য ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়ে। ফলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশের কর কাঠামো ও বাজার চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার গয়নাতেও নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস। বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে রুপার বিভিন্ন মানের দাম আলাদা করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি রুপার দাম প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমান দামের হিসাব অনুযায়ী, দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ক্রেতাদের জন্য নতুন করে খরচের হিসাব করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য স্বর্ণ কেনা এখন আগের চেয়ে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক মূল্য পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলাদেশের স্বর্ণ ব্যবসার ক্ষেত্রে বাজুস দীর্ঘদিন ধরে মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটির নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে একই দামে স্বর্ণ ও রুপার গয়না বিক্রির নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে স্বর্ণের বাজারে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা শুধু একটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়; বরং এটি দেশের ভোক্তা আচরণ, সঞ্চয়ের ধরন এবং গয়না শিল্পের ভবিষ্যৎ গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের কাছেই বাজারের পরবর্তী পরিবর্তন এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

