বাণিজ্যিক নিশ্চয়তা ও ডিসিটিএস কাঠামোর প্রভাব
অর্থনীতিবিদদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যে শুল্কজনিত বড় চ্যালেঞ্জ আসার যে আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণার ফলে তা অনেকটাই প্রশমিত হলো। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস) নামক বিশ্বের অন্যতম উদার ও সহজ বাণিজ্যাধিকার সুবিধা বাস্তবায়ন করছে। সারাহ কুক স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ যাতে কোনো ধরনের ধাক্কা ছাড়াই একটি মসৃণ ও টেকসই অর্থনৈতিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে পারে, সে লক্ষ্যেই যুক্তরাজ্য দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে এই বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাত এলডিসি পদোন্নতির পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় একই রকম পছন্দনীয় সুবিধায় থাকবে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঐতিহ্যগত উন্নয়ন সহায়তা থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপান্তর
অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন শুধু প্রথাগত উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহুকাল ধরে উন্নয়ন সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে এটি একটি আধুনিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে। অর্থ, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন খাতে ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে, যা বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে প্রত্যক্ষ অবদান রেখে চলেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ দুই দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও কাঠামোগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মজবুত সেতুর কাজ করছেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট
বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে সারাহ কুক জানান, একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকা বজায় রাখতে দুই দেশেরই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি মোকাবিলা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে যৌথ উদ্যোগ আবশ্যক। একই সঙ্গে প্রায় দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে উদারতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আশ্বাস দেন যে, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক নজর বজায় রাখার পাশাপাশি সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সুনিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

