রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করার অংশ হিসেবে ১১টি সুনির্দিষ্ট খাত ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক (ভ্যাট) নীতি বিভাগের সদস্য আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারার ৫ উপধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে এই রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের আওতাভুক্ত খাতসমূহ
এনবিআরের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব সুনির্দিষ্ট খাতে ডিজিটাল রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেগুলো হলো, সিগারেট উৎপাদনকারী, মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, বিমা খাত, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং, ওষুধ শিল্প, পানীয়, এমএস পণ্য, সিমেন্ট, টাইলস এবং রং ও বার্নিশ খাত। এখন থেকে এসব খাতের নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের এনবিআরের নির্ধারিত ই-ভ্যাট পোর্টালে প্রবেশ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই নিয়মিত ভ্যাট হিসাব জমা দিতে হবে।
নীতিগত স্পষ্টীকরণ ও শর্তাবলী
এনবিআরের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকায় থাকা পণ্য বা সেবা সরবরাহের পাশাপাশি কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান যদি অন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যবসায় যুক্ত থাকে, তবে পুরো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের এই নিয়ম সমভাবে প্রযোজ্য হবে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে অনলাইন রিটার্ন পেশ সংক্রান্ত অতীতে জারি করা পূর্বের সব আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে রাজস্ব বোর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় এই তালিকায় নতুন কোনো খাত যুক্ত করা বা বিদ্যমান খাত বাদ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করেছে।
অটোমেশন ও রাজস্ব ফাঁকি রোধের সম্ভাবনা
রাজস্ব কর্মকর্তাদের মতে, বৃহৎ ও অধিক রাজস্ব প্রদানকারী খাতগুলোকে শতভাগ অনলাইন রিটার্নের আওতায় আনা হলে রাজস্ব ফাঁকি কমে আসার পাশাপাশি সার্বিক কর ব্যবস্থাপনা আধুনিক হবে। সরাসরি ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ই-ভ্যাট পোর্টাল ব্যবহারের মাধ্যমে রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণের সময় বাঁচবে এবং করদাতাদের হয়রানি কমবে। অটোমেশন ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবেই মূলত এনবিআর এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

