জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার) পরিমাণের বাণিজ্যিক বা কঠিন শর্তের (নন-কনসেশনাল) বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। বাণিজ্য ও অর্থ ব্যবস্থার সাম্প্রতিক চাহিদা মেটাতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোন’ (এসসিএনসিএল)-এর বৈঠকে এই ঋণ প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অনুমোদিত ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের সিংহভাগই ব্যয় হবে দেশের জরুরি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরতা সামাল দিতে। প্রস্তাবিত এই তহবিলের মধ্যে ৩.১ বিলিয়ন ডলারই রাখা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জ্বালানি তেল জরুরি ভিত্তিতে আমদানির পাওনা মেটাতে।
অবশিষ্ট ২০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে থাকা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর জন্য, যা দেশের গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ কাঠামোর সক্ষমতা ও আধুনিকীকরণ বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ওই বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ইআরডির কার্যপত্র অনুযায়ী, এই ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হবে সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (SOFR)-এর সঙ্গে ০.৫০ শতাংশ স্প্রেড যোগ করে।
ঋণটি পরিশোধের জন্য ৫ বছরের রেস পিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছর সময় পাওয়া যাবে। তবে এর সাথে যুক্ত রয়েছে ০.১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম এবং ০.১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ। এডিবি থেকে প্রাপ্ত খসড়া চুক্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে ‘গ্রান্ট এলিমেন্ট’ বা অনুদান উপাদান রয়েছে মাত্র ৫.৭০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ঋণ মূল্যায়নের নিয়মানুযায়ী, কোনো ঋণের অনুদান উপাদান ২৫ শতাংশের নিচে থাকলে তা সহজ শর্তের (কনসেশনাল) ঋণ হিসেবে গণ্য হয় না, বরং কঠিন বা বাণিজ্যিক শর্তের ঋণ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হয়।
জরুরি এলএনজি ও জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের এত বড় কঠিন শর্তের বিদেশি ঋণ গ্রহণ এটাই প্রমাণ করে যে দেশীয় অর্থবাজার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর এখনো চাপ প্রবল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সময়মতো জ্বালানি নিশ্চিত না করতে পারলে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিদ্যুতের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। ফলে কঠিন সুদের হার ও বাণিজ্যিক শর্ত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় অর্থনৈতিক স্থবিরতা এড়াতে সরকার এই বৃহৎ অঙ্কের নন-কনসেশনাল ঋণ নিতে সম্মত হচ্ছে।

