বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন কেনাসহ মোট ১৩টি প্রকল্পের ব্যয় অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থায়নের হিসাবে এই ব্যয়ের সিংহভাগই আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে, প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ থেকে এবং বাকি প্রায় ৯ শতাংশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থে।
রেলওয়ের মিটারগেজ সেকশনে দ্রুত বাড়তে থাকা পণ্য ও আন্তঃনগর যাত্রী পরিবহনের চাহিদা মেটাতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হবে। প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা। ফলে ৩০টি ইঞ্জিন কিনতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের কাছে ট্রেন প্রথম পছন্দ এবং পণ্য পরিবহনেও রেল ভরসার মাধ্যম হওয়ায় গতি বাড়াতে ও সেবা আরও জনমুখী করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনের দুটি আলাদা প্রকল্পও এতে আছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক থেকে আট নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণও অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের (দ্বিতীয় সংশোধন) ব্যয়ও অনুমোদিত হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সম্প্রসারণ প্রকল্প, ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পও এর মধ্যে আছে।
পঞ্চগড়ের ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোর খাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ, থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের (দ্বিতীয় সংশোধিত) ব্যয় এবং রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ও অনুমোদন পেয়েছে।
তালিকা দেখে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বড় অংশই নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো এবং সড়ক-সেতুসংক্রান্ত। তার সঙ্গে রেল, নৌপরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পও আছে। তিনটি প্রকল্প সংশোধিত ব্যয়ের, অর্থাৎ আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় বা মেয়াদ নতুন করে ঠিক করা হয়েছে। এ ধরনের সংশোধনী নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, কেন মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ হলো না।
তবে অনেক তথ্য এখনো জানা যায়নি। ইঞ্জিন কেনার ঠিকাদার বা সরবরাহকারী কে হবে, ইঞ্জিনগুলো কবে নাগাদ রেলের বহরে যুক্ত হবে এবং প্রকল্পের মেয়াদ কত, তা প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা ব্যয়ও সব ক্ষেত্রে জানানো হয়নি। সংশোধিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় কত বেড়েছে, সে তথ্যও নেই। প্যারিসের চ্যান্সারি ভবন সংস্কারে কত টাকা লাগবে, তাও বলা হয়নি।
এখন নজর থাকবে ইঞ্জিন কেনার দরপত্র প্রক্রিয়া কত দ্রুত ও কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে ও বরাদ্দের মধ্যে শেষ হয় কি না, সেটিও দেখার বিষয়। অনুমোদনের পর বাস্তবায়নের গতিই ঠিক করবে এই বিপুল ব্যয়ের সুফল মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়।

