চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের প্রকল্পে নির্মাণকাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ কাজে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ১৭৬ কোটি ৩৮ লাখ ৭ হাজার ২৬১ টাকা। এই অর্থের একটি অংশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে, আরেকটি অংশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব চেয়েছিল। সাতটি প্রতিষ্ঠানই প্রস্তাব দেয় এবং কারিগরি মূল্যায়নে সবগুলোই গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি দর-কষাকষিসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সেখানে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড, ওসিজি, এসিই ও ডিডিসির যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্রতিষ্ঠান পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজের সার্বিক তদারকি ও মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সহায়তা করবে। নির্ধারিত কারিগরি বিবরণ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা তারা পর্যবেক্ষণ করবে। ঠিকাদারের জমা দেওয়া বিল ও অন্তর্বর্তীকালীন পরিশোধের প্রত্যয়ন যাচাই, নকশা ও কাজের পদ্ধতি পর্যালোচনা এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য বিলম্বের ওপর নজর রাখাও তাদের দায়িত্ব। এ ছাড়া কাজের পরিধি পরিবর্তন, ঠিকাদারের দাবি, সময় বাড়ানো, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অবকাঠামো চালুর মতো চুক্তিগত বিষয় সামলাতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে কারিগরি সহায়তা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর অনুমোদন করে। বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। প্রকল্প অনুমোদনের প্রায় তিন বছর পর এখন তদারকি পরামর্শক নিয়োগ হচ্ছে। অথচ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের জুনে, অর্থাৎ হাতে সময় আছে প্রায় ১ বছর ৯ মাস। তদারকি প্রতিষ্ঠান দেরিতে যুক্ত হলে নির্মাণকাজের মান যাচাই ও বিল পরিশোধের প্রত্যয়নের মতো কাজে কতটা সময় পাওয়া যাবে, সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই ওঠে। তবে নির্মাণকাজ এরই মধ্যে কতটা এগিয়েছে এবং ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রস্তাবে নেই।
আরও কিছু বিষয় এখনো অস্পষ্ট। চুক্তির মেয়াদ কত হবে, পরামর্শকের দলে কতজন বিশেষজ্ঞ থাকবেন এবং কাজ কবে শুরু হবে, তা জানানো হয়নি। মোট ১৭৬ কোটি টাকার মধ্যে কতটা সরকারি অর্থ আর কতটা এডিবির ঋণ, সে হিসাবও পাওয়া যায়নি। সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কত নম্বর পেয়েছে বা কত দরে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।
এখন নজর থাকবে পরামর্শকের সঙ্গে চুক্তি কত দ্রুত সই হয় এবং নির্মাণকাজের তদারকি কত দ্রুত শুরু হয়, সেদিকে। জলাবদ্ধতা এড়াতে রেললাইন উঁচু করার যে পরিকল্পনার কথা রেল প্রতিমন্ত্রী আগে জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে পরামর্শকের ভূমিকা কেমন হয়, সেটিও দেখার বিষয়। প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই তদারকির কার্যকারিতার ওপর।

