২০২৫ -২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে শিল্প খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হলেও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে।এপ্রিল থেকে জুন সময়ে স্থির মূল্যে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ। বিপরীতে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এ সময়ে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ফলে শিল্প ও সেবা খাতের উন্নত পারফরম্যান্সের বিপরীতে কৃষি খাত তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে ছিল।
শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি অবশ্য পুরো অর্থবছরজুড়ে স্থিতিশীল ছিল না। ২০২৫ -২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা নেমে আসে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে। তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছিল। এরপর চতুর্থ প্রান্তিকে আবার ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
কৃষি খাতেও বছরের বিভিন্ন প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির ওঠানামা ছিল। প্রথম প্রান্তিকে কৃষির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। শেষ প্রান্তিকে তা সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশে। একই সময়ে আগের অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।
সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি প্রথম প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল। শেষ প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ শেষ প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় সেবা খাতের গতি বাড়লেও অর্থবছরের মধ্যে খাতটির প্রবৃদ্ধিতে ওঠানামা ছিল।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতির তিন প্রধান খাতের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি করেছে, সেবা খাতও আগের বছরের তুলনায় উন্নতি করেছে। বিপরীতে কৃষির প্রবৃদ্ধি কমেছে। ফলে বছরের শেষ প্রান্তিকের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে শিল্প ও সেবা খাতই মূল গতি জুগিয়েছে।

