জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির চাপের মুখে সাময়িক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। তা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে কৃষি খাতের টানা ১৩ মাসের ধারাবাহিক প্রসার এবং আগামী দিনগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা বা ঘুরে দাঁড়ানোর শক্ত সামর্থ্যকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। ঢাকাভিত্তিক শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের ‘পারচাজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ (পিএমআই) প্রতিবেদনে এই ইতিবাচক ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ইউকে সরকারের অর্থায়নে এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ পারচাজিং অ্যান্ড মেটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) কারিগরি সহায়তায় যৌথভাবে এই পিএমআই সূচকটি তৈরি করা হয়।
গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের সার্বিক পিএমআই সূচক দাঁড়িয়েছে ৪৮.৬ পয়েন্টে, যা অর্থনীতিতে কিছুটা শ্লথগতি বা সাময়িক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। সূচক ৫০-এর নিচে থাকা মানে কিছুটা সংকোচন হলেও কৃষির শক্ত অবস্থান সার্বিক মন্দা কাটাতে বড় ভূমিকা রাখছে। সেপ্টেম্বর মাসে কৃষি খাতের পিএমআই ছিল ৫৫.২, যা অগাস্টের তুলনায় কিছুটা মন্থর হলেও নতুন ব্যবসা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে, শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সার্বিক সংকোচন দেখা দেওয়ায় পিএমআই নেমে এসেছে ৪৪.৮ পয়েন্টে, যদিও এই খাতে কর্মসংস্থানের সূচক আবারও সামান্য বৃদ্ধির মুখ দেখেছে, যা শ্রমবাজারের স্থিতিস্থাপকতার পরিচয় দেয়। এছাড়া নির্মাণ খাতে সূচক ছিল ৪৮.৫ এবং সেবা খাতে ৪৯.০ পয়েন্ট, অর্থাৎ এ দুটি প্রধান খাত প্রবৃদ্ধির সীমান্ত বা ৫০ পয়েন্টের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ব্যবসায়ীদের ইতিবাচক মনোভাবের বিষয়টি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আসছে শীতকালীন মরশুম, মূল ব্যবসায়ের পিক-সিজন, নিশ্চিত ক্রয়াদেশ এবং নির্ভরযোগ্য ক্রেতাদের উপস্থিতির কারণে আগামী মাসগুলোতে তাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। ‘ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স’ অনুযায়ী কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ ও সেবা; এই চার প্রধান খাতেই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে।

