প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্টের (এনআরসিটিএ) পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়মের ফলে এখন থেকে শুধু অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট নয়, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকেও প্রবাসীরা এই ধরনের হিসাব খুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি—এই তিন ধরনের এনআরসিটিএ হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দেশে অর্থ রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার এবং বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস এবং মানি ট্রান্সফার অপারেটরের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ এই হিসাবে জমা রাখা যাবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থেকে স্থানান্তর করা অর্থও এনআরসিটিএ হিসাবে রাখার সুযোগ থাকবে।
এই হিসাবে জমা থাকা অর্থ দিয়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের খরচ মেটানো যাবে। একই সঙ্গে অন্য ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগের সুবিধাও পাওয়া যাবে। এছাড়া জমা অর্থ জামানত রেখে ঋণ নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হিসাবের মূল অর্থের পাশাপাশি ওই অর্থের বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফাও বিদেশে পাঠানো যাবে। এর ফলে প্রবাসীরা দেশে অর্থ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বাধীনতা পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ করতে অনলাইনে হিসাব খোলার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ই-ব্যাংকিং সুবিধার মাধ্যমে বিদেশে অবস্থান করেও তারা নিজেদের হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা গেলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত থাকতে পারবেন। এটি প্রবাসী আয় ব্যবস্থাপনা এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

