দেশের বাজারে গত ছয় মাসে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রাশিং মিলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণে ডালের দাম বাড়ছে। তবে এ সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী মজুদ ও আমদানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মোটা মসুর ডালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮৫ থেকে ১০০ টাকা। ছয় মাস পর ৯ অক্টোবর একই ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১০৫ টাকা। একই সময়ে মোটা মুগ ডালের দাম ১২০-১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০-১৫০ টাকা, মটর ডাল ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা এবং ছোলার দাম ৮০-৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১১৫ টাকায় পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেও ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে মোটা মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৮১-৮২ টাকা, চিকন মসুর ১২০-১৬০ টাকা, চিকন মুগ ১৫৩-১৫৮ টাকা, মোটা মুগ ১৩০-১৩৫ টাকা, মটর ৫৭-৫৮ টাকা এবং ছোলা ১০০-১০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে ডালের চাহিদা বাড়ে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ মিলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল মোটা মুগ ডালের পাইকারি দাম ছিল ৮৫-৯০ টাকা। ৮ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮-১৩২ টাকায়। অর্থাৎ ছয় মাসে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৪২-৪৩ টাকা। একই সময়ে মটর ডালের দামও ৩৮-৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ছোলার দাম। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে আগাম মজুদের প্রবণতার কারণে ছোলার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ছয় মাস আগে পাইকারিতে ছোলার দাম ছিল ৭০-৭৪ টাকা, যা এখন বেড়ে ৯৪-১০০ টাকায় উঠেছে।
বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের ডাল উৎপাদন হলেও দেশের চাহিদা পূরণে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডাল আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও দেশে জ্বালানি, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাল সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম খরচে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মাছ-মাংসের দাম বেশি থাকায় অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার ডালের ওপর নির্ভর করে। ফলে ডালের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় আরও বেড়ে যায় এবং পুষ্টি গ্রহণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

