বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ রেকর্ড ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুন শেষে ঋণের এ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।
রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১১০.৯৩ বিলিয়ন ডলার। জুন শেষে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলারে, যা তিন মাসে ৩.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতি ডলার ১২৩.২০ টাকা বিনিময় হার হিসাবে মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ১১৩.৫২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুন শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৩.৫৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ১.২৯ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১.২৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ৯৫.১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চের শেষে ছিল ৯০.৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে সরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪.১৯ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ১৪০ মিলিয়ন ডলার কমে ১৯.৮৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
জুন শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের ৮৭.৫২ শতাংশই ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০.৬৪ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
ঋণদাতাদের মধ্যে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৪৮.৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ৩২.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ১০.৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ ৫.৯৭ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের ঋণ কমার পেছনে স্বল্পমেয়াদি ঋণ, ক্রেতাঋণ ও বাণিজ্যিক ঋণ হ্রাসের ভূমিকা রয়েছে।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ২০.৬৫ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালের শেষে তা বেড়ে ২২.৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়। ২০২৪ সালে দলটির সরকারের পতনের আগে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ১০৪.৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ঋণ বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়ায় ১১৩.৫৮ বিলিয়ন ডলারে।যা ২০২৬ এ আরও বেড়ে যায়।

